সিভিল ড্রেসে অভিযানে গিয়েই উত্তে’জনা! ‘আসামি ছিনতাই’কে কেন্দ্র করে ডোমকলে পুলিশের উপর হাম’লা, আ’হত পুলিশকর্মী, তল্লাশিতে গ্রেফ’তার একাধিক অভিযুক্ত!

মুর্শিদাবাদের ডোমকলের কুচিয়ামোড়া এলাকা শুক্রবার রাত থেকে কার্যত থমথমে। এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে উল্টে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার মুখে পড়তে হল পুলিশকেই। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন দুই পুলিশকর্মী। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে। তবে গোটা ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। একদিকে পুলিশের দাবি, সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিভিল ড্রেসে আসায় পুলিশকে চিনতে না পেরেই এই গোলমাল বাধে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্র আইনে অভিযুক্ত আজমত শেখ নামে এক দুষ্কৃতিকে ধরতেই শুক্রবার সন্ধ্যায় ডোমকল থানার একটি দল কুচিয়ামোড়া এলাকায় পৌঁছয়। পুলিশের কাছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল বলে দাবি। স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় আজমতকে আটক করার চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই উত্তেজিত জনতা পুলিশকে ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই পুলিশকর্মীকে বেধড়ক মারধরও করা হয়। ঘটনায় আহত হন কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের এএসআই গোলাম কুদ্দুস এবং কনস্টেবল অসীম বিশ্বাস। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডোমকল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।

এরপরই শুরু হয় পুলিশের পাল্টা অভিযান। রাতভর তল্লাশি চালিয়ে তিন মহিলা-সহ মোট ১০ জনকে আটক করা হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকর্মীদের মারধর এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল অভিযুক্ত আজমত শেখের খোঁজ চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি যাতে আবার উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, সেই কারণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই বহু বাড়িতে পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

তবে ঘটনার অন্য একটি দিকও সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, অভিযানে আসা পুলিশকর্মীরা সিভিল ড্রেসে ছিলেন। ফলে সাধারণ মানুষ তাঁদের পুলিশ বলে বুঝতেই পারেননি। স্থানীয় চায়ের দোকানের মালিক আমিনা বিবির অভিযোগ, “হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে একজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওদের গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল না। আমরা ভেবেছিলাম গ্রামের কাউকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই অনেকে বাধা দেয়।” তাঁর আরও অভিযোগ, পরে পুলিশ এসে তাঁদের বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর চালায়। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। একইভাবে কমলা বিবি নামে আর এক বাসিন্দার অভিযোগ, তাঁর অসুস্থ ছেলে নিজাম আলিকে রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যদিও সে ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নয়।

আরও পড়ুনঃ বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার প্ররোচনা? বাংলায় ভোট পরবর্তী হিং’সার উস্কানি মামলায় গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়! পুলিশি জেরার মুখে পরমব্রতও!

এই ঘটনাকে ঘিরে ফের উঠে এসেছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা। পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যে সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে পুলিশকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়ার কথা বারবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিছুদিন আগেই পার্ক সার্কাসে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “পুলিশের গায়ে আঁচড় লাগলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।” ডোমকলের ঘটনায় সেই বার্তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, অভিযানে সঠিক পরিচয় স্পষ্ট না থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায় কি না। এখন দেখার, তদন্তে শেষ পর্যন্ত কোন ছবি সামনে আসে এবং পলাতক আজমত শেখকে ধরতে পুলিশ কত দ্রুত সফল হয়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর