প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তায় মান্যতা শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের! বিকাশ ভবনে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু, বিদ্যুৎ ও পেট্রল সাশ্রয়ে কড়া নির্দেশ প্রশাসনের!

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কার মধ্যে এবার প্রশাসনিক স্তরেও শুরু হল বড়সড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তার পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও চালু হতে চলেছে আংশিক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থা। সূত্রের খবর, রাজ্যের শিক্ষা দফতরের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র বিকাশ ভবনে ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ ও পেট্রল সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একাধিক নতুন নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। বিশেষ করে সিনিয়র আধিকারিকদের জন্য বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।

বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, আগামী দিনে অধিকাংশ বৈঠকই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করা হবে। অফিসে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমানো এবং বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের লিফট ব্যবহারে সংযম আনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অফিসে আসার ক্ষেত্রে পুল কার ব্যবহারের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে আলাদা আলাদা গাড়ির বদলে একসঙ্গে যাতায়াত করা যায় এবং জ্বালানি খরচ কমানো সম্ভব হয়। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যা সাতটার পর অপ্রয়োজনীয় আলো জ্বালিয়ে না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ধাপে ধাপে এই পদক্ষেপ কার্যকর করা হচ্ছে।

তবে আপাতত সমস্ত কর্মীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা হচ্ছে না। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, একসঙ্গে সবাইকে বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ দিলে সরকারি কাজের গতি ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব দফতরে সরাসরি নথি বা জনসাধারণের পরিষেবার সঙ্গে কাজ জড়িত, সেখানে অফিসে উপস্থিত থাকা জরুরি। সেই কারণেই প্রথম ধাপে শুধুমাত্র সিনিয়র আধিকারিকদের জন্য এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। করোনা পরিস্থিতির সময় যেভাবে বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, প্রশাসনের একাংশ মনে করছে সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার নতুনভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আবারও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতিতে ফেরার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই এই বার্তা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশের পরই প্রথম বড় পদক্ষেপ করে দিল্লির বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বে দিল্লির সমস্ত সরকারি অফিসে সপ্তাহে দু’দিন করে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা হয়। পাশাপাশি সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ির জন্য বরাদ্দ জ্বালানিও ২০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অফিসারদের জন্য মাসিক পেট্রোল বরাদ্দও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আনা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ সিভিল ড্রেসে অভিযানে গিয়েই উত্তে’জনা! ‘আসামি ছিনতাই’কে কেন্দ্র করে ডোমকলে পুলিশের উপর হাম’লা, আ’হত পুলিশকর্মী, তল্লাশিতে গ্রেফ’তার একাধিক অভিযুক্ত!

দিল্লির পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের উদ্যোগ শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। আবার বিরোধীদের দাবি, শুধু নির্দেশ জারি করলেই হবে না, বাস্তবে সরকারি পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয় সেই দিকেও নজর রাখা জরুরি। তবে প্রশাসনের দাবি, সাধারণ মানুষের পরিষেবা বজায় রেখেই ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এখন দেখার, বিকাশ ভবনে শুরু হওয়া এই মডেল ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য সরকারি দফতরেও চালু হয় কি না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর