India-China :সাত বছর পর মোদি-বেজিং বৈঠক! সীমান্ত সন্ত্রাস নিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস জিনপিংয়ের, নতুন কৌশলগত বন্ধুত্বের বার্তা বিশ্বমঞ্চে!

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মাইলফলক স্থাপন হলো রবিবার, যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত বছর পর বেজিং সফরে যান। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে এই সফরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন শুল্ক নীতির মাঝে ভারতের এবং চিনের বন্ধুত্বের নতুন বার্তা গ্লোবাল সাউথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

চিনের তিয়ানজিন শহরে ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় চলা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদি বলেন, ‘চিন এবং ভারতের বন্ধুত্বে কল্যাণ হবে গোটা পৃথিবীর। দুই দেশের ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ এই সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত।’ বৈঠকের শুরুতেই মোদি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গত বছর কাজানে আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল, যা সীমান্ত বিরোধের পরবর্তী সময়ে সম্পর্ককে ইতিবাচক দিশা দিয়েছে। এ সময় সীমান্তে শান্তি, সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হওয়া এবং পারস্পরিক ভ্রমণ সহজ হওয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদি বৈঠকে বলেন, ‘পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে আমরা এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী।’ তিনি পুরো বক্তব্য হিন্দিতে পড়ে শোনান এবং পরে তা স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে বৈঠকের দু’মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে দেখা যায় দুই নেতা মুখোমুখি বসে আলোচনা করছেন। এটি সাত বছর পর মোদি এবং জিনপিংয়ের মুখোমুখি বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি উপস্থাপন করে।

বৈঠকে মোদি স্পষ্টভাবে সীমান্তে সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি জানান, প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত সন্ত্রাসের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন এবং ভারত ও চিন উভয়ই এই ভয়াবহতার শিকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে মোদি মূলত পাকিস্তানের কর্মকাণ্ডকেই নিশানা করেছেন। শি জিনপিং ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন, যা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

আরও পড়ুনঃ LPG Price Update: পুজোর আগেই গ্যাসের দামে হঠাৎ বড় স্বস্তি! এক ধাক্কায় কমল দাম, এবার কত টাকা দিয়ে কিনতে হবে গ্যাস?

চিনের প্রেসিডেন্ট বৈঠকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও চিনের বন্ধুত্ব একান্ত জরুরি। আমাদের সভ্যতা সবচেয়ে প্রাচীন এবং আমরা গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রেক্ষাপটে এই নতুন বন্ধুত্ব আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মোদি-জিনপিং বৈঠকের মাধ্যমে সীমান্ত শান্তি, কৌশলগত সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য দুই দেশের প্রস্তুতি স্পষ্ট হলো।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর