কলকাতার রাজনৈতিক আবহ আবারও উত্তপ্ত। শহরের বুকে যে মঞ্চকে কেন্দ্র করে বহু কর্মসূচি হয়েছে, হঠাৎই সেটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন টানাপোড়েন। সাধারণ মানুষের কৌতূহল এখন একটাই—হঠাৎ করে কেন সেই মঞ্চ খুলে দেওয়ার কাজ শুরু করল সেনা, আর কেনই বা সেখানে ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
ঘটনাটি ঘটে মেয়ো রোডে। জানা গিয়েছে, ফোর্ট উইলিয়াম থেকে সেনা-জওয়ানরা এসে সেই মঞ্চের কাঠামো ভাঙতে শুরু করেন। ওই মঞ্চটিই তৃণমূল কংগ্রেস ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচির জন্য ব্যবহার করে আসছিল। এখনও প্রতি শনিবার ও রবিবার সেই মঞ্চ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। ফলে হঠাৎ মঞ্চ খুলতে শুরু করায় শাসক শিবিরে ক্ষোভ ছড়ায়।
ফোর্ট উইলিয়াম সূত্রে দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের অনুমতি শেষ হওয়ার পরও মঞ্চ পড়ে ছিল। সেনার বক্তব্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দু’দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে টানা এক মাস ধরে মঞ্চটি জায়গায় পড়ে রয়েছে। সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও তা সরানো হয়নি বলেই জওয়ানরা নামেন পদক্ষেপে। পাশাপাশি প্রশ্ন ওঠে, যদি কেবল সপ্তাহান্তে অনুমতি থাকে তবে বাকি দিনগুলোতে কেন সেই মঞ্চ রাখা হবে?
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলেই ব্যাখ্যা করছে। দলীয় নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, বিজেপি ইচ্ছে করেই সেনাকে ব্যবহার করছে। তিনি জানান, দল অনুমতি নিয়েছে, সিকিউরিটি মানিও জমা দিয়েছে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর চেয়ার, ফ্যান, কাপড় সব সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কেবল বাঁশের কাঠামো পড়ে ছিল। সেটিও তারা সরিয়ে দিত। কিন্তু সেনার এই হস্তক্ষেপ অস্বাভাবিক বলেই মনে করছে তৃণমূল।
আরও পড়ুনঃ India-China :সাত বছর পর মোদি-বেজিং বৈঠক! সীমান্ত সন্ত্রাস নিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস জিনপিংয়ের, নতুন কৌশলগত বন্ধুত্বের বার্তা বিশ্বমঞ্চে!
পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, তখনই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মঞ্চ খুলে ফেলার কাজ খতিয়ে দেখেন এবং সেনার ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। পরবর্তীতে সেখানেই বক্তব্যও রাখেন তিনি। রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনার জেরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মেয়ো রোডের এই মঞ্চকাণ্ড এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।





