নেপালের অগ্নিগর্ভ রাজনীতির মাঝেই শুক্রবার রাতেই শপথ নিলেন ৭৩ বছরের সুশীলা কারকি। চার দিন আগেই ওলি সরকারের পতনে অস্থির হয়ে ওঠে দেশ। সেই শূন্যতায় প্রথম নারী অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তিনি। নেপালের রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্তকে অনেকে অভূতপূর্ব বলছেন, আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—বিক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্মের চাপেই কি এই পরিবর্তন?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অবশ্য দেরি করেননি। এক্স হ্যান্ডলে কারকিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখলেন, “নেপালের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির জন্য ভারত সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” কিন্তু এখানেই শুরু বিতর্ক। সমালোচকদের দাবি, নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের এই প্রকাশ্য অবস্থান কি আসলে ‘বন্ধুত্ব’ নাকি ‘অতিমাত্রায় হস্তক্ষেপ’?
কারকি নিজেও মোদিকে নিয়ে মন্তব্য করে আগুনে ঘি ঢেলেছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই তিনি বলেছিলেন, “ভারতের প্রতি আমার অপরিসীম শ্রদ্ধা ও স্নেহ রয়েছে। তারা সব সময় নেপালের পাশে থেকেছে।” একাংশ তরুণ আন্দোলনকারীর কাছে এই বক্তব্য ভারতের প্রতি অযথা নরম মনোভাবের পরিচায়ক। তাঁদের প্রশ্ন, যে আন্দোলনের জোরে ওলির পতন, সেই আন্দোলনের প্রধান দাবিই ছিল স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ। তাহলে নতুন প্রধানমন্ত্রী কেন শুরুতেই প্রতিবেশী শক্তিকে ‘নমস্কার’ জানাতে ব্যস্ত?
বুধবার পাঁচ হাজারেরও বেশি তরুণ ভারচুয়াল বৈঠক করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে কারকির নাম প্রস্তাব করেছিলেন। শর্ত ছিল অন্তত এক হাজার লিখিত স্বাক্ষর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২,৫০০-রও বেশি সমর্থনপত্র জমা পড়ে। স্পষ্ট যে ‘জেন জি’ প্রজন্মই তাঁকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। তবু একই প্রজন্মের একটি বড় অংশের অসন্তোষও এখন ফুঁসছে। তাঁদের ভয়, এই সরকার আবারও ভারতকেন্দ্রিক হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুনঃ Jadavpur University :যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কড়া নির্দেশিকা! ছাত্রী*মৃত্যুর পর বন্ধ মর্নিং-ইভিনিং ওয়াক, মদ-গাঁজায় কড়া নিষেধাজ্ঞা!
নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে একদিকে নারী নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়, অন্যদিকে ভারতের ছায়া—দুটোই একসঙ্গে হাজির। কারকির দায়িত্ব তাই দ্বিগুণ। এখন দেখার বিষয়, তিনি আসলেই দেশের নতুন সূচনা গড়তে পারবেন, নাকি আগের মতোই ভারত-নির্ভর নেপাল রাজনীতির আরেকটি অধ্যায় লিখবেন।





