যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মানেই শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। শুধু পড়াশোনা নয়, সংস্কৃতি, রাজনীতি, আড্ডা সব মিলিয়েই আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে এই ক্যাম্পাস। বহু সাধারণ মানুষও প্রতিদিন সকালে কিংবা সন্ধেয় হাঁটার জন্য আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনায় আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে যাদবপুরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার রাতে তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের কাছে থাকা ঝিলে পড়ে মারা যান। এই ঘটনার পরেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন মদ্যপানের আসর বসেছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক সূত্রে খবর। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফের একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আর সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার থাকবে না হাঁটার উদ্দেশ্যে। সকাল-সন্ধেয় বহু মানুষ যাদবপুর ক্যাম্পাসে হাঁটতে আসতেন। কিন্তু এবার সেই অভ্যাসে বিরতি টানতে চলেছে কর্তৃপক্ষ। সর্বসাধারণের জন্য মর্নিং ও ইভিনিং ওয়াক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মদ ও গাঁজা নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকা একেবারেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কিং স্টিকার লাগানো গাড়ি ঢুকতে পারবে ক্যাম্পাসে। স্টিকার না থাকলে গাড়ির মালিককে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে প্রবেশপথে। সন্ধে সাতটার পর ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কারও কাছে পরিচয়পত্র না থাকলে প্রবেশপথে নিজের বৈধ পরিচয় দিতে হবে এবং কাকে দেখতে আসছেন তা জানাতে হবে।
আরও পড়ুনঃ Supreme Court : দাগি প্রার্থীদের বেতন ফেরত কবে? সুপ্রিম কোর্টের তোপে রাজ্যকে দিতে হবে দ্রুত জবাব!
এর আগেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় একাধিকবার নিরাপত্তার কড়াকড়ি করেছে। তবে অভিযোগ, বেশিরভাগ নির্দেশিকাই খাতায়-কলমেই থেকে গেছে, বাস্তবে তেমন ফল পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য অমিতাভ দত্ত স্বীকার করেছেন, নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় এবং এ বিষয়ে সরকারকে জানানো হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই নতুন নিয়মগুলি সত্যিই কার্যকর হবে কি না, নাকি আগের মতোই কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।





