No Muslim Face in Modi’s Cabinet: লোকসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদার নানান বিজেপি নেতারা দাবী করেছেন যে এখন নাকি সংখ্যালঘু মুসলিমরা তাদের ভোট দিচ্ছেন। যদিও বিরোধীদের দাবী ছিল, এমনটা কিছুই হচ্ছে না। আর ভোটের ফলাফলের পর দেখা গেল শুভেন্দুদের দাবীর মধ্যে তেমন সত্যতা সত্যিই ছিল না।
গতকাল, রবিবার সন্ধ্যেয় তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। এদিন মোদীর সঙ্গে শপথ নিয়েছেন ৭২ জন। তাদের নিয়েই তৈরি হবে মোদীর নতুন ক্যাবিনেট ৩.০। কিন্তু সবথেকে যেটা নজর দেওয়ার বিষয়, এবারেও মোদীর মন্ত্রিসভা কিন্তু মুসলিম শূন্য (No Muslim Face in Modi’s Cabinet)। ধারাবাহিকভাবেই যে দেশের সরকারের ক্যাবিনেটে কোনও মুসলিম প্রতিনিধি নেই, তা লক্ষ্য করার মতো বিষয় বৈ কী!
অনেকের কথাতেই, ‘নো ভোট, নো পোস্ট’ পলিসি নিয়েছে বিজেপি। অর্থাৎ ভোট না দিলে কোনও পদও মিলবে না (No Muslim Face in Modi’s Cabinet)। সংখ্যালঘুরা বিজেপি না তাদের শরিকদের ভোট দেয় নি। ফলে পদও মেলেনি, এমনটাই ধারণা অনেকের। যদিও বিজেপি যে সংখ্যালঘু ভোট পাবে, তা সেভাবে আশাও করা যায় না। দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এমনই ঘটনা।
বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার পর থেকেই মুসলিমদের বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। আর গোধরা কাণ্ডের পর তা আরও বেশি প্রকট হয়ে ওঠে। অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এই সার সত্য বুঝেছিলেন যে মুসলিম ভোট পাওয়া বিজেপির পক্ষে কঠিন। যদিও তাঁর আমলে মন্ত্রিসভায় মুসলিম মুখ ছিল। ১৯৯৮ সালে মোখতার আব্বাস নকভিকে মন্ত্রী করেছিলেন বাজপেয়ী।
বাজপেয়ী জমানার পর লালকৃষ্ণ আডাবাণী বিজেপির সভাপতি হন। ২০০৯ সালে লোকসভা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী হওয়া লক্ষ্য ছিল তাঁর। সংখ্যালঘুদের বার্তা দিতেই পাকিস্তান সফরে গিয়ে তিনি মহম্মদ আলি জিন্নাহর বেশ প্রশংসা করেছিলেন। জিন্নাহ নাকি ধর্মনিরপেক্ষ ছিলেন বলে দাবী করেছিলেন তিনি। তবে তাঁর সেই মন্তব্যের জন্য সংঘ পরিবারের চাপে পড়ে সভাপতির পদ ছাড়েন আডবাণী।
এরপরও যদিও বিজেপিতে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। ২০১৪ সালে মোদীর মন্ত্রিসভায় দু’জন সংখ্যালঘু প্রতিনিধি ছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে মোদী দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিসভায় কোনও সংখ্যালঘু মুখে দেখা মেলেনি। আর এবারও তেমনটাই হল (No Muslim Face in Modi’s Cabinet)।
প্রসঙ্গত, ভারতের জনসংখ্যা মোটামুটি ১৪০ কোটি। এর মধ্যে মুসলিমের সংখ্যা ২০ কোটি। এই সংখ্যা যদিও ভাতের মোট জনসংখ্যার অনেকটাই কম। তবে আবার খুব কমও নয়। কারণ এমন অনেক দেশ রয়েছে যাদের জনসংখ্যা ২০ কোটিরও কম। বাংলাদেশের জনসংখ্যা এমন। ফলে মোদীর মন্ত্রিসভায় কোনও মুসলিম মুখ না থাকায় (No Muslim Face in Modi’s Cabinet), তা নিয়ে যে ফের কাঁটাছেঁড়া হতে চলেছে, তা বেশ স্পষ্ট।






