অখিলেশের সময়ও ভোটের পর জ্বলেছিল UP, একুশের ভোটেও হিংসার আঁচ বাংলাতে! যোগীর জয়ের পর পুরো শান্ত উত্তরপ্রদেশ

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। পঞ্জাব চগারা বাকি চার রাজ্যে বয়ে গিয়েছে গেরুয়া ঝড়। উত্তরপ্রদেশে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। এই প্রথম পরপর দু’বার একই সরকার ক্ষমতা গড়বে উত্তরপ্রদেশে। বড় ভোটের ব্যবধানে জিত হাসিল করেছেন যোগী নিজেই।

যোগী সরকারের আগে উত্তরপ্রদেশে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেছে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি। ২০১২ সালে অখিলেশের জয়ের পর গোটা উত্তরপ্রদেশে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দিকে দিকে ঘটে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে উত্তরপ্রদেশে তাণ্ডব চালায় সমাজবাদী পার্টির আশ্রিত গুণ্ডারা।

২০১২ সালের ‘ইন্ডিয়া টুডে’র রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে হত্যা করা হয়। একাধিক দলিত পরিবার ঘরছাড়া হয় সেই সময়, এমনকি, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর শোনা যায়। সমাজবাদী পার্টির সমর্থকরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর সমর্থকদের উপর হামলা চালায়।

সেই সময় এই হিংসার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করে নি সমাজবাদী পার্টি। এমনকি উলটে অখিলেশ যাদব দাবী করেন যে যারা এই হিংসার ঘটনা চালাচ্ছে, তারা সমাজবাদী পার্টির অংশ নয়। তিনি জানান যে তাঁর দল থেকে যাদের নির্বাচনের আগে বহিষ্কার করা হয়েছিল ও পূর্বের বহুজন সমাজ পার্টির লোকজনই এই হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে একুশের নির্বাচনের পরও এই একই ঘটনাই ঘটে। তীব্র ভোট পরবর্তী হিংসার মুখে পড়ে বাংলা। নানান জেলা থেকে উঠে আসে একাধিক হিংসার খবর। একাধিক বিজেপি নেতার মৃত্যু, মহিলাদের ধ’র্ষ’ণ, শারীরিক অত্যাচার, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার অভিযোগ ওঠে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

এই নিয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই মামলা এখনও চলছে। বেশ কয়েকজনকে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু অনেক অভিযুক্ত এখনও অধরা। এই ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দপাধায়কে সেভাবে কোনও পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। রাজ্য পুলিশও এই ঘটনায় অনেক অভিযুক্তকেই ছাড় দিয়ে দেয়।

তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ২০২২-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের বিপুল জয়ের পর শান্তির পরিবেশ রয়েছে সে রাজ্যে। অখিলেশের জমানার মতো বা একুশের বিধানসভার পর পশ্চিমবঙ্গে যেমন হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তেমন কোনও খবর যোগীর আমলে এখনও পর্যন্ত মেলেনি।

শুধু ২০২২-ই নয়, ২০১৭ সালেও যোগী সরকার প্রথমবার উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসার পর কোনও হিংসার ঘটনার খবর মেলেনি। তাহলে কী ধরে নেওয়া যেতেই পারে, অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি ও পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের জমানাতেই হিংসার ঘটনা প্রবল? বলে রাখা ভালো, উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সমাজবাদী পার্টির হয়ে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। উত্তরপ্রদেশে অখিলেশের সঙ্গে যৌথসভা করেন তিনি।

RELATED Articles