India-pakistan : “অপারেশন সিঁদুর কেবল ট্রেলার ছিল”—ভারতের সেনাপ্রধানের মন্তব্য ঘিরে পাকিস্তানে তীব্র আতঙ্ক, সীমান্তে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা!

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সীমান্তে সংঘর্ষ, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ, এবং কূটনৈতিক স্তরে টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ আরও ঘনীভূত হয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় সেনার একটি পদক্ষেপ এবং সেই সম্পর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও সতর্ক নজরে পরিস্থিতিকে পর্যবেক্ষণ করছেন।

এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অপারেশন সিঁদুর কেবল একটি ট্রেলার ছিল, আর পুরো পর্বটি শেষ হয় ৮৮ ঘণ্টা পরে। পাকিস্তান যদি আমাদের সুযোগ দেয়, ভারত শিখিয়ে দেবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ কেমন হওয়া উচিত।” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের সুর কড়া হয়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের মন্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়া অসম্ভব এবং ভারত আবারও সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করতে পারে বলে পাকিস্তানের ভেতরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

একটি টেলিভিশন আলোচনায় তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে অনুপ্রবেশের ঘটনায় নাকি ভারতের ভূমিকা রয়েছে। তাঁর দাবি, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইরানসহ একাধিক দেশ পাকিস্তানের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আরও অভিযোগ করেন, কাবুল এখন জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে এবং ভারতের সহায়তায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বাড়ছে—যা পাকিস্তানের নিরাপত্তাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর কথায়, পাকিস্তান কোনওভাবেই ভারতকে বিশ্বাস করতে পারে না।

তবে বিষয়টি শুধু ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নেই। পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও উঠেছে বিস্ফোরক অভিযোগ। চতুর্থ প্যারায় উঠে আসে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির বক্তব্য। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেন, ইসলামাবাদের কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থে ভুয়ো সন্ত্রাসী হামলার নাটক সাজায়। টোলো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিদির অভিযোগ—অস্থিতিশীল পরিবেশে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীই লাভবান হচ্ছে এবং এর ফলে খাইবার অঞ্চলে শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা তৈরি হচ্ছে। পশতুন তাহাফুজ আন্দোলনের সদস্যদের অপহরণের ঘটনাও তিনি নিন্দা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ Sheikh Hasina : “ইউনূস আমাকে ফাঁসি দেবে? আমি অরে ফাঁসি দিব!”— রুদ্ধশ্বাস ফোনকলেই বিস্ফোরক হাসিনা! কলকাতার আওয়ামী শিবিরে তাতেই কি শুরু হল গোপন রাজনৈতিক ঝড়?

একদিকে ভারতের কড়া সামরিক বার্তা, অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের মধ্যে ভয়, আর তাতে যুক্ত হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ—সব মিলিয়ে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সীমান্তে শান্তি ফিরবে কি না, তা এখনই বলার উপায় নেই। তবে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ভাঙার এই প্রবণতা যদি বাড়তেই থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি এড়ানো কঠিন হবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর