বিশ্ব রাজনীতির আকাশে যেন আবারও ঘনাচ্ছে অশনি সংকেত। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ, কূটনৈতিক টানাপোড়েন আর পরমাণু শক্তিধর দেশগুলির সরব অবস্থান—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই আবহে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে নতুন করে চর্চা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আঞ্চলিক অস্থিরতা কি আরও বড় সংঘাতে গড়াতে পারে?
ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে একদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের জেরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও তপ্ত হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি (Ali Khamenei)-কে ঘিরে হুমকি ও পাল্টা হুমকির রাজনীতিও সামনে এসেছে। এই সংঘাত যে সীমান্ত পেরিয়ে বৃহত্তর প্রভাব ফেলতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জল্পনাও উসকে উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
এই প্রেক্ষাপটেই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি (Asif Ali Zardari)। সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ভারত নাকি আরেকটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতের শীর্ষ নেতৃত্ব নাকি নতুন সংঘাতের জন্য কৌশল আঁটছে। যদিও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জারদারি বলেন, তিনি শান্তির পক্ষে এবং যুদ্ধের রাজনীতি সমর্থন করেন না। একই সঙ্গে নয়াদিল্লিকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বানও জানান তিনি।
ভারত-পাক সম্পর্কের প্রেক্ষিতে জল কূটনীতি নিয়েও সরব হন জারদারি। পহেলগাঁও হামলার পর ভারত যে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ‘জল-সন্ত্রাস’-এর সামিল। উল্লেখ্য, ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে জল বণ্টনের ভিত্তি হিসেবে কার্যকর ছিল। অপারেশন সিঁদুরের পরও সেই অবস্থানে বদল না আসায় ইসলামাবাদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari: মমতার পাড়ায় রঙের উৎসবেই শুভেন্দুর রাজনৈতিক হু*ঙ্কার! ভবানীপুরে ‘ওয়ার রুম’ তৈরি করে ‘সেকুলারিজম নিপাত যাক’ স্লোগানের মাঝেই ২০২৬-এ সরাসরি চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত!
এখানেই থেমে থাকেননি জারদারি। কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সমস্যার সমাধান না হলে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের প্রতি কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন জারি রাখবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনও দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।






