“পঁচাত্তর বছরে এসে আর ল’ড়াই করার শক্তি নেই…” রঙের উৎসবে র’ক্তাক্ত বর্ষীয়ান অভিনেতা শঙ্কর ঘোষাল! ছেলে-বৌমার বিরুদ্ধে নি’র্যাতনের দাবি, দোলের সন্ধ্যায় অভিযোগে ভেঙে পড়লেন তিনি!

দোলের রঙিন আবহে যখন চারদিক উৎসবের আনন্দে মগ্ন, তখন এক প্রবীণ অভিনেতার জীবনে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। বর্ষীয়ান অভিনেতা শঙ্কর ঘোষাল অভিযোগ তুলেছেন, ছেলে ও বৌমার হাতে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। দোলের সন্ধ্যায় ভেঙে পড়া কণ্ঠে তিনি জানান, নাতি তাঁর মাথায় ঘুষি মেরেছে, ছেলে লাঠি আছড়ে বেঁকিয়ে দিয়েছে। পঁচাত্তর বছরের বৃদ্ধ মানুষ হিসেবে এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা তাঁর নেই বলেই দাবি। তাঁর কথায়, তিনি নাকি ছেলে বৌমার মন জুগিয়ে চলতে পারছেন না, আর সেই কারণেই এই দুর্ব্যবহার।

উত্তর কলকাতার গৌরীবাড়ি অঞ্চলে তাঁর বাস। অভিনেতার দাবি, এই নির্যাতন এক দিনের নয়। কয়েকদিন আগেও তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়, তাতে পায়ে গুরুতর চোট লাগে এবং রক্তপাত হয়। নিয়মিত ঠিকমতো খেতেও পান না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে পার্কিনসন্স রোগে ভুগছেন, ফলে অভিনয় থেকেও দূরে সরে গেছেন। জমানো অর্থ প্রায় শেষ। মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে মাসোহারা দেন তাঁর অভিনেত্রী বোন রত্না ঘোষাল। সেই টাকাতেই কোনও মতে সংসার চালান তিনি ও তাঁর স্ত্রী ভারতী ঘোষাল।

তবে এই অভিযোগের বিপরীতে ভিন্ন সুর শোনা গেছে তাঁর স্ত্রী ভারতী দেবীর কাছ থেকে। তিনি ছেলের পক্ষ নিয়েই স্বামীকে দোষারোপ করেছেন। তাঁর দাবি, সহানুভূতি কুড়োতেই নাকি শঙ্করবাবু মিথ্যা বলছেন। পরিবারের এই দ্বন্দ্বে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রত্না ঘোষালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন ধরেননি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মাঝেই রয়ে গেছে এক প্রবীণ দম্পতির টানাপোড়েনের কাহিনি।

শঙ্কর ঘোষালের অভিযোগ এখানেই থেমে নেই। তাঁর দাবি, ছেলে নাকি তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চান। যদিও বাড়ির মালিক তিনি নিজেই, তাই আইনি দিক থেকে তা সম্ভব হয়নি। দোলের দিন বাধ্য হয়ে মানিকতলা থানায় ফোন করেন তিনি। নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের তরফে যথাযথ সহযোগিতা পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন অভিনেতা।

আরও পড়ুনঃ Pakistan : “ভারত নতুন যুদ্ধের ছক কষছে”— পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির বিস্ফো*রক দাবি!

এই প্রসঙ্গে মানিকতলা থানার অফিসার দেবাশিস দত্ত জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়। দোলের দিনে যেখানে রঙের ছোঁয়ায় সম্পর্ক আরও উজ্জ্বল হওয়ার কথা, সেখানে এক প্রবীণ শিল্পীর জীবনে নেমে এসেছে সম্পর্কের তিক্ততা। অভিযোগ সত্য না মিথ্যা তা সময়ই বলবে, কিন্তু এই ঘটনা নিঃসন্দেহে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে পরিবার ও দায়িত্ববোধের জায়গায়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles