৪১ টি কয়লাখনি বেসরকারিকরণের মাধ্যমে ভারতকে আত্মনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর

ভারতকে আত্মনির্ভর বানাতে এবার বেসরকারিকরণের সূত্রপাত করলেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতের কয়লাখনি গুলিকে এবার বেসরকারি করে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু। এর জন্য দ্বিস্তরীয় নিলাম প্রক্রিয়ার সূচনা করলেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তোলার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।কয়লাখনি গুলিতে বহুবছর ধরে চলে আসা লকডাউন এবার শেষ হবে বলে আশা রেখেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, “কয়লা কারোর একার নয়, এটি সবার জন্য। আর তাই এবার থেকে কয়লার বাজার খোলা হল। বিভিন্ন সেক্টরকে সাহায্য করবে এই কয়লাক্ষেত্র।” পাশাপাশি কয়লাখনির এই নিলামে কয়লাখনির ক্ষেত্রে অর্থ ও প্রযুক্তির বিনিয়োগ ঘটবে বলেই আশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাথমিক ভাবে ৪১ টি কয়লাখনিকে নিলামে তোলার কথা জানানো হয়েছে কেন্দ্রর তরফে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কয়লার মধ্যে থেকে আমাদের হীরক খুঁজে আনতে হবে। আর আমাদের এই স্বপ্ন একদিন ঠিক সফল হবেই। এই পদ্ধতিতে বেসরকারি কোম্পানিগুলিও নতুন বাজার পাবে। তাতে দেশে বিনিয়োগও বাড়বে। ফলে শেষ অবধি লাভ ভারতের অর্থনীতিরই হবে।”

এদিন ভিডিও বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, “করোনার এই ভয়াবহতাই আমাদের আত্মনির্ভর হতে শিখিয়েছে। আর এই পথে প্রথম পদক্ষেপ হল বিদেশি আমদানির পরিমাণ কমানো। আর সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সরকার।”

ভারত এখন বিশ্বের জ্বালানি শক্তির ভান্ডার হিসেবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে কয়লা ও জ্বালানি তেল আমদানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর মতে, এর একমাত্র কারণ হল দশকের পর দশক ধরে চলতে থাকা লকডাউন। ফলে আমাদের জ্বালানি শক্তিই আমরাই সঠিকভাবে ব্যবহার আমরা করতে পারছি না। আর তাই কয়লাখনিগুলিকে নিলাম করার মাধ্যমে বড় পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্রীয় সরকার।

প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, এই বেসরকারিকরণের ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারতের জ্বালানি রপ্তানির একটা সুযোগ তৈরি হল। এবার থেকে বিদেশেও আমাদের জ্বালানির চাহিদা বাড়বে। এছাড়া এই খনিগুলিতে এত দিন যারা লকডাউনের জন্য কাজ পাচ্ছিলেন না, তাদের বেকারত্বের সমস্যাও কিছুটা কমবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী।

কয়লাখনি গুলি নিলামের ফলে আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে দেশে অন্তত ৩৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে বলে আশা করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া এই খনিগুলি বেসরকারি মালিকানায় চলে গেলে তা থেকে পরবর্তীকালে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিও বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে পারবে।

করোনা সংক্রমণের জেরে দেশের অর্থনীতি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তাই দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গত মাসে ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পে এই প্যাকেজ বিশেষ ভূমিকা নেবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ই কয়লাখনি নিলামের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন তিনি। কয়লাখনি গুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং পাশাপাশি দেশের আয় বাড়াতে ব্লক নিলামের সুপারিশ দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। এবার সেই পরামর্শ মেনেই কয়লাখনি নিলামের উদ্যোগ নিলেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও অন্যান্য খবর