হঠাৎ করেই স্কুলের বেতন বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় পড়েন বহু অভিভাবক। সন্তানের পড়াশোনার খরচ এমনিতেই বাড়ছে, তার উপর কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই বেতন বৃদ্ধি হলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। ঠিক এমনই এক পরিস্থিতিতে নিজেদের উদ্বেগ জানাতে স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কিছু অভিভাবক। কিন্তু সেই আলোচনা যে এমন জায়গায় পৌঁছবে, তা কেউই কল্পনা করেননি। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়, আর সেখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।
অভিযোগ, বেতন বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইতেই স্কুলের অধ্যক্ষের ব্যবহার ও মন্তব্য ক্রমশ অশালীন হয়ে ওঠে। অভিভাবকদের দাবি, যুক্তিসঙ্গত প্রশ্নের জবাব দেওয়ার বদলে অধ্যক্ষ ব্যক্তিগত আক্রমণে নেমে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। উপস্থিত এক মহিলা অভিভাবক পরে জানান, স্কুলের পক্ষ থেকে কোনও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, বরং প্রশ্ন তোলাতেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
ঘটনার পরেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিয়ো, যা নতুন করে আগুনে ঘি ঢালে। ‘রমেশ তিওয়ারি’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ওই ভিডিয়োতে এক মহিলা স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ নাকি এক অভিভাবককে বলেন—“আপনি কীভাবে উপার্জন করবেন সেটা দেখুন, আপনার স্ত্রীকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন।” এই মন্তব্য ঘিরেই চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়েছে, অন্যায়ভাবে বেতন বাড়ানোর প্রতিবাদ করাতেই এমন কুরুচিকর মন্তব্য করেন অধ্যক্ষ।
ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ের বোরিভালির একটি বেসরকারি স্কুলে। অধ্যক্ষের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা এরপর সরাসরি স্থানীয় বিধায়ক সঞ্জয় উপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জানান। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে সঞ্জয় উপাধ্যায় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসকে চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি শুধু কুরুচিকর মন্তব্য নয়, বেসরকারি স্কুলে নিয়ম বহির্ভূত বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : বাংলাদেশে হিন্দু যুবক খু*নের প্রতিবাদে উত্তাল পরিস্থিতি, ব্যারিকেড ভাঙতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াল VHP!
অভিযোগ সামনে আসার পর শুক্রবার রাজ্য শিক্ষা দফতর কড়া পদক্ষেপ করে। গোটা ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, বেতন বৃদ্ধির বৈধতা এবং অধ্যক্ষের মন্তব্য—সব দিক খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত এই ঘটনাকে ঘিরে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ যেমন তীব্র, তেমনই নজর রয়েছে শিক্ষা দফতরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।






