ভারতে শুরু হচ্ছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, অক্টোবরের মধ্যেই বাজারে আসবে করোনা টিকা

এবার করোনা ভাইরাস প্রতিষেধকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করছে ভারত, জানা গিয়েছে এমনটাই। এই মারণ ভাইরাসকে আটকাতে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা অবিরাম কাজ করে চলেছেন। বিশ্বে প্রায় দেড়শোটি প্রজেক্ট চলছে করোনার টিকা বানানোর। ভারতের বিজ্ঞানীরাও নিরলস প্রয়াস চালাচ্ছেন করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য।

পুনার সেরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা ভাইরাস প্রতিষেধকের গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছে। এবার আশার আলো দেখাল তারা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি এই প্রতিষেধকের ট্রায়াল সফল হলে আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যেই তা বাজারে চলে আসবে দাবি করেছেন সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সিইও আদর পুনাওয়াল্লা।

বিশ্বে এখনও পর্যন্ত করোনার টিকা আবিষ্কারের পাঁচটি প্রজেক্ট ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যন্ত পৌঁছেছে। যার মধ্যে রয়েছেন ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সাতটি বিশ্বমানের ইনস্টিটিউট। যাদের মধ্যে অন্যতম পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট। 

গত বৃহস্পতিবার করোনা সংক্রমণ আটকাতে আবিষ্কার করা টিকা ব্রিটেনে দুজন স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় ৮০০ জনের শরীরে ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এঁদের মধ্যে অর্ধেক ব্যক্তির শরীরে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ও বাকি অর্ধেকের শরীরে নিয়ন্ত্রিত মেনিনজাইটিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। 

অক্সফোর্ডের এই গবেষক দলের প্রধান সারাহ গিলবার্ট ভ্যাকসিনের সাফল্যের ব্যাপারে ৮০ শতাংশ আশাবাদী। সবকিছু ঠিক ভাবে চললে সেপ্টেম্বরেই ওই ভ্যাকসিন বা টিকা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

অক্সফোর্ডের গবেষকদের আবিষ্কার করা এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা সফল হলেই তা বাণিজ্যিক ভাবে বানাতে শুরু করবে সেরাম ইনস্টিটিউটও। তখনই ভারতে পাওয়া যাবে এই টিকা।

আদর পুনাওয়াল্লা জানান, “সাধারণত ভ্যাকসিন তৈরি করতে অনেক সময় লাগলেও, দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা এটি তৈরির কাজ শুরু করতে পারব। এক মাসের মধ্যে ৫০ লক্ষ ভ্যাকসিন বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে, আর ৬ মাস পর সংখ্যাটা এক কোটিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। ব্রিটেনে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল সফল হলে আমরা ভারতেও এটি পরীক্ষা করে দেখব, আমরা খুব শীঘ্রই এটা করতে পারব বলে আশা করি, সুরক্ষা ও কার্যকারিতার দিক থেকে ঠিক থাকলে অক্টোবর বা নভেম্বরেই এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে, সেক্ষেত্রে চলতি মাসের শেষেই ব্যক্তিগত ব্যয়ে আমাদের এই ভ্যাকসিনের উৎপাদন শুরু করতে হবে।”

বর্তমানে ভারতে ৬টি সংস্থা নিজেদের মত করে করোনা ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে জোরকদমে। তার মধ্যে একটি হল সেরাম ইনস্টিটিউট। এই সংস্থা ছাড়াও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর অনুমোদন পেয়েছে জাইদাস ক্যাডিলা, বায়োলজিক্যাল ই, ভারত বায়োটেক, ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যালস এবং মিনভ্যাক্স।

আরও অন্যান্য খবর