নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে রাজ্য ও কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন জানতে চাইছেন, নির্বাচন কমিশন কেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব এবং সিনিয়র অফিসারদের ভিনরাজ্যে অবজারভার ট্রেনিংয়ের জন্য নির্দেশ দিল। এর পেছনে কি শুধুই নিয়ম মেনে নেওয়া পদক্ষেপ, নাকি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রও আছে – এই প্রশ্নে এখন উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজনীতির অঙ্গণে।
নির্বাচন কমিশন রাজ্যকে পাঁচবার রিমাইন্ডার দেওয়ার পরও অবজারভারের তালিকা না দেওয়ায় স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা এবং ১৫ জন আইএএস, ১০ জন আইপিএস কর্মকর্তাকে ভিনরাজ্যে ট্রেনিং নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রেনিং সম্পন্ন হলে তাদেরকে অন্যান্য রাজ্যে অবজারভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সাধারণত আইএএস বা আইপিএস কর্মকর্তাদের অন্য রাজ্যে অবজারভার হিসেবে পাঠানো হয়, তবে কোনও রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবকে এভাবে পাঠানো নতুন বিষয়।
তালিকায় শুধু স্বরাষ্ট্রসচিব নয়, হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠি, উলগানাথান, সঞ্জয় বানশাল, শুভাঞ্জন দাসের নামও রয়েছে। এই ট্রেনিং আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, এটি নিয়ম মেনে নেওয়া পদক্ষেপ এবং তালিকা না দেওয়ায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রেনিং নেওয়া মানেই সরাসরি অবজারভার হিসেবে নিয়োগ নিশ্চিত নয়।
রাজ্য রাজনীতিতেও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি এই পদক্ষেপকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করছে। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “এটা পরিষ্কার ষড়যন্ত্র। বিজেপি পিছন থেকে পরিকল্পনা করছে। যে রাজ্যে নির্বাচন নেই, সেখান থেকেই অবজারভার নিয়ে কাজ করা যায়। এই ধরনের পদক্ষেপ মরিয়াদা রাজনীতির অংশ।”
আরও পড়ুনঃ Kolkata medical college: কলকাতা মেডিক্যালে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান, মঞ্চ থেকে বেরিয়ে গেলেন নির্মল মাজি!
অন্যদিকে বিজেপি বলছে, এটি সাধারণ নিয়ম। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “১৯৫২ সাল থেকে ব্যাচ ধরে অবজারভারের তালিকা তৈরি হয়। এটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, এখানে কোনও রাজনীতির বিষয় নেই।” এখন প্রশ্ন রয়ে গেল, স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে ভিনরাজ্যে পাঠানো ন্যায়সংগত কি না। নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক আরও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।






