ধর্মীয় উৎসব কি শুধুই ভক্তির ব্যাপার, নাকি তার সঙ্গে মিশে যায় রাজনীতি? রামনবমীর মতো একটি হিন্দু ধর্মীয় উৎসব ঘিরে প্রতিবছরই উত্তপ্ত হয় বাংলার রাজনৈতিক আবহ। মিছিল, শোভাযাত্রা, ধর্মীয় স্লোগান—এসবের পাশাপাশি দেখা যায় রাজনৈতিক টানাপোড়েনও। গত কয়েক বছর ধরে এই উৎসব ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। তাই রামনবমীর আগে থেকেই কড়া সতর্কতা জারি করে প্রশাসন। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি আরও অন্যরকম মোড় নিয়েছে।
একদিকে ধর্মীয় শোভাযাত্রা, অন্যদিকে IPL-এর মতো বড় ক্রীড়া ইভেন্ট—দুটো কি একই দিনে একসঙ্গে সম্ভব? কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে অনুষ্ঠিত হতে চলা KKR বনাম LSG ম্যাচ হঠাৎ করেই বাতিল করা হয়েছে, কারণ রামনবমীর দিন পুলিশ নিরাপত্তার সংকট দেখা দিতে পারে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। রাজ্যের শাসক দল ও বিরোধীদের মধ্যে বাকযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে রামনবমীকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, আর প্রশাসনের যুক্তি, শহরের নিরাপত্তা রক্ষা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এমন পরিস্থিতিতেই ব্যারাকপুরে এক জনসভা থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, “রামনবমী ঘিরে কেউ সমস্যা তৈরি করতে এলে, তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। ইটের জবাব পাথর দিয়ে দিতে হবে।” এমনকি তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, প্রশাসন যদি বাধা দেয়, তবে তা প্রতিরোধ করতে হবে। এই বক্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিরোধী শিবিরের দাবি, এটি আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার প্রকাশ্য উস্কানি।
আরও পড়ুনঃ ঝড়ের মধ্যে রথ টানতে গিয়ে বিপদ! ঘটল ভয়াবহ দুর্ঘটনা!রথযাত্রার সময় ভেঙে পড়ল ১৫০ ফুট উঁচু রথ, মৃত ১, আহত বহু!
তবে শুধু রামনবমী নয়, IPL ম্যাচ বাতিল নিয়েও সুকান্ত আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের সরকার রামনবমী উদযাপন করতে চায় না, তাই অজুহাত দেখিয়ে IPL-এর ম্যাচও বাতিল করেছে। তার বক্তব্য, “হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার থাকা অসমে একই দিনে রামনবমী ও IPL ম্যাচ হতে পারে, অথচ বাংলায় তা সম্ভব নয়!” BJP নেতার এই মন্তব্যে আগুনে ঘি পড়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রামনবমীকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে, কিন্তু BJP-র পাল্টা হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সকলের। রামনবমী উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এখন দেখার, উৎসবের দিন কোনও অশান্তি হয় কিনা, নাকি শুধুই রাজনৈতিক বিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এই বিতর্ক।





