সাল ২০২০। মানুষ লড়ছে এক অজানা ভাইরাসের বিরুদ্ধে। আর সেইসঙ্গে সমগ্র নারী জাতি প্রত্যেকটা দিন লড়ে চলেছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে। যে সমাজে আজও মেয়েরা অবহেলিত, কন্যাভ্রূণ হত্যা যেখানকার নিত্যদিনের ঘটনা। পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষায় স্ত্রী থেকে কন্যা নির্যাতনের শিকার পুরুষের। আদিম, বর্বর অবস্থা থেকে শুরু করে প্রযুক্তির এই তুমুল অগ্রগতির সময়ে পৌঁছেও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানবকূল।
এই দেশের আনাচে কানাচে এখনও কুসংস্কারের জাল বিশালভাবে পাতা। সম্প্রতি রাঁচির (Ranchi) এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড তা আবার প্রমাণ করে দিল জাতি হিসেবে আমরা কতটা পিছিয়ে। পিতার বংশ রক্ষায় পুত্র চাই। আর তাই সে ‘বলি’ দিল নিজের ছ’বছরের ফুটপুটে কন্যাসন্তানকে!
রাঁচির বাসিন্দা ২৬ বছরের সুমন নেগাসিয়া। পেশা শ্রমিক। মনেপ্রাণে তুমুল ইচ্ছা পুত্রসন্তানের বাবা হবে। কিন্তু ঘরে যে তার লক্ষ্মী। মন ভরেনা বাবার।
এই পরিস্থিতিতে কুসংস্করাচ্ছন্ন সুমন ভরসা পায় এক তান্ত্রিকের কথায়। আমাদের সমাজে এমন সাধু, তান্ত্রিক আকছার মেলে। সেই তান্ত্রিকই সুমনকে কুমন্ত্রণা দিয়ে বলে, নিজের মেয়েকে হত্যা করলে সেই মেয়ে আবার নতুন করে জন্ম নিয়ে ছেলে হয়ে ফিরে আসবে সুমনেরই কাছে। অন্ধবিশ্বাসের কবলে পড়ে ঠিক সেটাই করতে মনস্থ করে ফেলে অভিযুক্ত সুমন। সে নিজের ছোট্ট মেয়ের গলা কেটে তাকে খুন করে। ঘটনার সময় সুমনের স্ত্রী নিজের বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন। তাই সুমনকে বাধা দেওয়ারও কেউ ছিল না। সেই ছোট্ট মেয়েও পারেনি নিজের বাবাকে বাধা দিতে।
পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। মৃত শিশুর দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে। ঘটনার অভিঘাতে তীব্র শোকাহত শিশুটির মা। থেকে থেকেই জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। এদিকে পুলিশ খোঁজ করছে সেই তান্ত্রিকের, যে সুমনকে একাজে উসকানি দিয়েছিল। শিগগিরি তাকে ধরার ব্যাপারে আশাবাদী পুলিশ।






