Suvendu Adhikari : ‘২৩ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে অন্যায়, দিল্লি গিয়ে নাটক’—মেহবুবকে নিশানা করে তোপ দাগলেন শুভেন্দু অধিকারী!

রাজ্যের হাজার হাজার যুবক-যুবতী আজ চাকরি হারিয়ে দিশেহারা। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের পর বহুজনের চাকরি বাতিল হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কারও কাছে ন্যায়, কারও কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। যাঁরা সত্যিই মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছিলেন বলে দাবি করছেন, তাঁদের জীবন আজ আইনি লড়াইয়ে জর্জরিত। তবু আন্দোলন থেমে নেই, সোচ্চার অনেকেই।

গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে চাকরিহারাদের বিক্ষোভ চলছে। একদিকে মহামান্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, অন্যদিকে আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী দিল্লিতেও। কিছু চাকরিহারা সম্প্রতি দিল্লি গিয়েছেন তৃণমূলের সহায়তায়—এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, কে যোগ্য, কে নয়—এই তর্কের শেষ কোথায়? তৃণমূলের ভূমিকা নিয়েও বিভাজিত মতামত সামনে আসছে।

এই আবহেই হুগলির চাঁপদানিতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নতুন কটাক্ষ করেন। তাঁর প্রশ্ন, “কে যোগ্য? ওই মেহবুব মণ্ডল? উনি তো র‍্যাঙ্ক জাম্প করে চাকরি পেয়েছেন। তাঁকে তো আবার গাড়ি ভাড়া করে দিল্লি পাঠিয়েছে তৃণমূল।” এমন মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। যদিও একাংশের দাবি, মেহবুব কোনও দলীয় সুবিধা নয়, নিজের ন্যায্য দাবির জন্যই পথে নেমেছেন।

এটি প্রথম নয়, নেতাজি ইন্ডোরে চাকরিহারাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের দিনও শুভেন্দু বলেছিলেন, “এরা কেউ প্রকৃত মেধাযুক্ত শিক্ষক নন। চব্বিশে ভোটে এদেরই ব্যবহার করেছে তৃণমূল।” তাঁর অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবারে ‘টেন্টেড’ চাকরিপ্রার্থীদের দিয়েই ভোট করানো হয়েছে। এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ চাকরিহারারা, যাঁরা নিজেদের যোগ্য বলে দাবি করছেন। তবে শুভেন্দুর দাবি, এই আন্দোলনের আড়ালে রাজনৈতিক নাটক চলছে, এবং দিল্লি যাত্রা তারই প্রমাণ।

আরও পড়ুনঃ Women Property Rights : বিবাহবিচ্ছেদ মানেই খালি হাতে ফেরত? স্বামীর কোন সম্পত্তি চাইলেও পাবেন না স্ত্রী! জানুন বিস্তারিত

শুভেন্দু এদিন মুর্শিদাবাদ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জানান, সেখানে ইতিমধ্যেই ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তাঁর আইনজীবী আদালতে আবেদন করবেন আরও বাহিনী মোতায়েনের জন্য। কিন্তু এদিনের সবথেকে তীক্ষ্ণ বার্তা ছিল দিল্লি গমনে চাকরিহারাদের ভূমিকা নিয়ে। বিরোধী নেতার অভিযোগ, “এসব খেলা চলবে না। আমরা ২০১৬ সালের ২৩ লক্ষ প্রকৃত চাকরিপ্রার্থীর পক্ষেই আছি। তাঁদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা অন্যায়।”—এই একবাক্যেই যেন রাজ্য রাজনীতির মূল সুর তুলে ধরলেন শুভেন্দু।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles