একটি সম্পর্কে যখন ভালোবাসা ফুরিয়ে যায়, তখন তার ইতি টানার নামই বিবাহ বিচ্ছেদ। কিন্তু সম্পর্ক ভাঙার পরও থেমে থাকে না টানাপোড়েন। ইমোশনাল জটিলতার পাশাপাশি উঠে আসে আইন, অধিকার এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রশ্ন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রেই এই প্রশ্নটা বড় হয়ে ওঠে—স্বামী ও তাঁর পরিবারের সম্পত্তির উপর কি কোনও অধিকার থাকে বিচ্ছেদের পরেও? অনেকেই ভাবেন, বিয়ের পর যে পরিবারে তিনি পা রেখেছেন, সেই পরিবারের সম্পদেও তাঁর স্বাভাবিক ভাগ থাকবে। কিন্তু আইন কী বলছে?
ভারতের মতো দেশে, যেখানে সামাজিক গাঁটছড়া কখনও ধর্ম, কখনও নিয়ম, কখনও বা ভালোবাসার হাত ধরে বাঁধা পড়ে—সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে নারীর ভবিষ্যৎ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে বহু প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই জানেন না, বিবাহ বিচ্ছেদের পরে একজন মহিলা কী কী সম্পত্তির উপর আইনি ভাবে দাবি করতে পারেন এবং কোন সম্পত্তিতে তিনি কোনও ভাবেই অধিকার পাবেন না। তাই এই বিষয়টা জানা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এতে নারী নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে পারবেন এবং আইনগত দিক থেকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন।
ভারতের পারিবারিক আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের পর স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার স্বীকৃত। তবে এর মানে এই নয় যে স্বামীর সমস্ত সম্পত্তিতে তাঁর দাবি থাকবেই। বিশেষত, আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, স্বামীর পৈতৃক সম্পত্তি তে স্ত্রীর কোনও অধিকার নেই। অর্থাৎ, স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিতে স্ত্রী কোনও দাবি করতে পারেন না। এমনকি শ্বশুর-শাশুড়ি বা স্বামীর অন্য আত্মীয়দের সম্পত্তিতেও তাঁর অধিকার স্বীকৃত নয়। এই বিষয়ে বহু মানুষ বিভ্রান্ত থাকেন, অথচ আইন একেবারে স্পষ্ট।
তবে ব্যতিক্রম একটাই—যদি বিয়ের আগে বা বিয়ের সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিউচুয়াল এগ্রিমেন্ট হয়ে থাকে, যেখানে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে কোনও শর্ত নির্ধারণ করা থাকে, তাহলে সেই অনুযায়ীই চলবে আইন। তাছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদের সময় আদালত স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করতে পারে, যা স্বামীর পক্ষে বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী।
আরও পড়ুনঃ Weather update : পয়লা বৈশাখে ছাতা হাতে নববর্ষ? দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় আসছে স্বস্তির ঝরো হাওয়া, দেখে নিন বিস্তারিত!
সবশেষে, একটি জিনিস পরিষ্কার—স্বামী জীবিত থাকাকালীন তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পত্তিতে স্ত্রীর কোনও অধিকার নেই। তবে স্ত্রী তাঁর বিয়ের সময় পাওয়া গয়না-অলঙ্কার এবং ব্যক্তিগত উপহারগুলির উপর সম্পূর্ণ অধিকার রাখেন। সেগুলি স্বামীর পরিবার ফিরিয়ে দিতে বাধ্য। সুতরাং, বিবাহবিচ্ছেদের পর একজন নারীর অধিকার সীমিত হলেও, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্র আছে যেখানে তিনি আইনত নিজের দাবি রাখতে পারেন। সচেতনতা থাকলেই এই কঠিন সময়ে নিজের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব।





