বাংলায় লক্ষ্মী ভাণ্ডারের ৫০০ টাকাতেই কাজ সাঙ্গ, কিন্তু মাসিক ৫০০০ টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়েও গোয়ার গৃহকর্ত্রীদের মন জয় করতে ব্যর্থ মমতা

গতকালই প্রকাশিত হয়েছে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। পঞ্জাব ছাড়া বাকি চার রাজ্য অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর ও গোয়াতে উড়েছে গেরুয়া ঝড়। এবার গোয়াতে সংগঠন বাড়াতে বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তৃণমূল। বাংলায় পরপর তিনবার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়াতে এই পদক্ষেপ ঘাসফুল শিবিরের।

কোঙ্কণ উপকূলের এই রাজ্যে মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে লড়েছিল তৃণমূল। ভোট প্রচার পর্বে নানান প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল তৃণমূল সুপ্রিমোর তরফে। কিন্তু গতকালের ফলাফল দেখে হতাশ হতে হল ঘাসফুল শিবিরকে।

৪০ আসন বিশিষ্ট গোয়ার বিধানসভায় বেশিরভাগ আসনই পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল ও মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির জোট পেয়েছে মাত্র দুটি আসন। কিন্তু এই দুটি আসনের একটিও তৃণমূলের ভাগ্যে জোটে নি যা নিয়ে রাজ্যের বিরোধীরা তোপ দাগতে শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

আসলে গোয়ায় নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নানান প্রতিশ্রুতি দেন মমতা। সে রাজ্যের গৃহবধূদের জন্য ‘গৃহলক্ষ্মী কার্ড’ করার কথা ঘোষণা করেন তিনি।  তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছিল যে বিধানসভা নির্বাচনে সে রাজ্যে যদি তৃণমূল ক্ষমতায় আসে, তাহলে প্রত্যেক পরিবারের গৃহকর্ত্রীকে প্রত্যেক মাসে ৫,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। বলে রাখি, বাংলায় চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে প্রত্যেক পরিবারের গৃহকর্ত্রীরা পান মাসে ৫০০ টাকা করে।

এই বিষয়ে গোয়া তৃণমূলের তরফে টুইট করে লেখাও হয়, প্রতিটি পবিবারের মাসিক আয় নিশ্চিত করতে গোয়া তৃণমূল গৃহলক্ষ্মী কার্ড চালু করেছে। এই মাসিক আয় সহায়তা প্রকল্পে প্রতিটি পরিবারের এক জন মহিলাকে মাসে সরাসরি ৫,০০০ টাকা (বছরে ৬০ হাজার) দেওয়া হবে”।

https://twitter.com/AITC4Goa/status/1469556439043563520?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1469556439043563520%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fkhabor24x7dotcom.wpcomstaging.com%2Fnews%2Fnational%2Ftmc-has-announced-to-give-5000-to-women-of-every-household-if-they-win-in-upcoming-assembly-election-in-goa-60936%2F

এমনকি সেই সময় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোয়ার মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের কথা জানিয়ে টুইটারে লিখেছিলেন, “গৃহলক্ষ্মী প্রকল্পের ঘোষণা করতে পেরে আমি খুশি। গোয়ার প্রতিটি পরিবারের মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।

https://twitter.com/MamataOfficial/status/1469614374100758529?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1469614374100758529%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fkhabor24x7dotcom.wpcomstaging.com%2Fnews%2Fnational%2Ftmc-has-announced-to-give-5000-to-women-of-every-household-if-they-win-in-upcoming-assembly-election-in-goa-60936%2F

কিন্তু এত প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও গোয়ার গৃহকর্ত্রীদের মন জয় করতে পারলেন না মমতা। পশ্চিমবঙ্গে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে গৃহকর্ত্রীদের মাসিক ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলা ভোটব্যাঙ্কে কবজা বসিয়েছিলেন মমতা সহজেই। সেই একই পদ্ধতি তিনি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন গোয়ার ক্ষেত্রেও। কিন্তু শেষমেশ তাঁর ঝুলি শূন্য।

গোয়ায় ‘গৃহলক্ষ্মী কার্ড’ প্রকল্পের ঘোষণার সময় বিতর্ক উঠেছিল যে মমতা নিজের রাজ্যের মহিলাদের মাসিক ৫০০ টাকা দিচ্ছেন অথচ ভিনরাজ্যের মহিলাদের মাসিক ৫০০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করলেন এই নিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের এই কৌশল কাজে এল না। গোয়ায় ডাঁহা ফেল করলেন মমতা।

RELATED Articles