পশ্চিমবঙ্গের রেলওয়ে বাজেট ও কেন্দ্রের অন্যান্য প্রকল্প নিয়ে সংসদে প্রশ্ন ডেরেক ও’ব্রায়েনের, রেলমন্ত্রক দিল মোক্ষম জবাব

তৃণমূলে নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন সংসদে ২০২১-এর বাজেটের চূড়ান্ত নিন্দা করেন। তাঁর মতে, এই বাজেট ১০০ শতাংশ দিশাহীন। তিনি এও বলেন যে এই বাজেটের মাধ্যমে গোটা ভারতকে বিক্রি করছে কেন্দ্র। সংসদে এই বাজেটের অন্তর্গত রেলওয়ে বাজেট ও রাজ্যে কেন্দ্র দ্বারা পরিচালিত নানান প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেতা। পরিবর্তে রেলমন্ত্রক তাঁর প্রশ্নের মোক্ষম জবাব দেয়।

দেরেক ও’ব্রায়েনের মতে, কেন্দ্র রেলওয়ে, বিমানবন্দর, বন্দর, সবকিছুই বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে পশ্চিমবঙ্গে রেলের ৩১টি প্রকল্প এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ রেলওয়ে বাজেটকে একইসঙ্গে অর্থবর্ষের বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করায়, তা বেশ ক্ষতিই হয়েছে। এমনকি কিছু প্রকল্পকে ‘স্পেশ্যাল পারপাস ভেহিকল’ মডেলের আওতায় আনাকেও নিন্দা করেছেন তিনি।

তাঁর এই অভিযোগের জবাব দিয়েছে রেলমন্ত্রক। তাদের মতে , রেলওয়ে বাজেটকে সাধারণ বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করা মানে এই নয় যে সেই বরাদ্দে কোনওরকম কাটছাঁট হবে। বরং, এও বাজেটকে সাধারণ বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করার ফলে কেন্দ্রের সাহায্য পাওয়া সহজলভ্য হয়েছে এবং বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গকে অবহেলা করার প্রসঙ্গে মন্ত্রকের দাবী, ২০২১-২০২২ অর্থবর্ষের বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো ও প্রকল্পের জন্য ৬৬৩৬ কোটি বরাদ্দ হয়েছে যা এখনও পর্যন্ত সবথেকে বেশি। রাজ্যের নানান প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রকের দাবী রাজ্যে বর্তমানে ৫৩টি প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে ৩৪টি প্রকল্পের জন্যই বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশীরভাগ প্রকল্পই প্রায় ৪৫ বছর পুরনো। ‘স্পেশাল পারপাস ভেহিকল’ মডেল নিয়ে মন্ত্রকের দাবী এর ফলে রেলওয়ে প্রকল্পে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য ও কজে কোনও সিদ্ধান্তও নেওয়া আরও সহজ হয়েছে।

মন্ত্রকের দাবী, রাজ্য সরকার অনেকসময়ই জনগণের দাবী পূরণে প্রকল্পের দাবী করে, এই ক্ষেত্রে এই ‘স্পেশাল পারপাস ভেহিকল’ বিশেষ উপযোগী। রেলমন্ত্রকের তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েনকে জানানো হয় যে রেল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সমস্যা, ও অন্যান্য বাধা বিপত্তি যাতে অপসারণ করা হয়, সেইজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারবার অনুরোধ করেছে রেল। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “আমি মমতাদির কাছে বিষয়টি ত্বরান্বিত করতে ও আমাদের জমি দিতে অনুরোধ করেছি”।

তিনি আরও বলেনযে এই প্রকল্পগুলি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে কারণ পশ্চিমবঙ্গের আগের বাম সরকার ও এখনকার তৃণমূল সরকার আমাদের জমি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি প্রায় ৪৫ বছরের পুরনো। তাঁর মতে, আগে রেলমন্ত্রীরা তহবিল ও জমির ব্যাপার যাচাই না করেই প্রকল্প ঘোষণা করে দিতেন। আর এই কারণেই অনেক রেল প্রকল্প অসম্পূর্ণ রয়েছে। কিন্তু এই ধারা এখন পরিবর্তন হয়েছে। এখন জমির ব্যাপারে বিবেচনা করার পরেই কোনও প্রকল্প ঘোষণা করা হয়।

আরও অন্যান্য খবর