গত বছর করোনার জেরে হওয়া লকডাউনে কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। সংসার চালাতে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের সঞ্চয় শেষের মুখে।
করোনার জেরে দেশে যে আর্থিক মন্দা দেখা দিয়েছে, তার প্রভাবে অক্টোবর মাস থেকেই দেশের বেকারত্বের হার বাড়তে শুরু করে। তবে এবার একটু আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি’র (CMIE) পরিসংখ্যান জানাচ্ছে নতুন বছরে বেকারত্বের সমস্যা কাটিয়ে একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ভারত।
CMIE থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর— এই তিন মাসে দেশে ফের বেকারত্বের হার ৬.৯৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.০৬ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু নতুন বছরে জানুয়ারিতে দেশের বেকারত্বের হার ৬.৫৩ শতাংশে নেমেছে।
CMIE-এর পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, অক্টোবর মাসে কাজ হারিয়েছিলেন দেশের ৫০ হাজার মানুষ। নভেম্বরে বেকার হয়েছেন প্রায় ৩৫ লক্ষ নাগরিক! ফলে ডিসেম্বরে বেকারত্বের হার বেড়ে গিয়েছিল অনেকটাই। তবে জানুয়ারিতে নতুন কর্মসংস্থানের জেরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
দেশের কর্মসংস্থান, বেকারত্বের হার এবং অর্থনীতি— এই তিনটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তাই কর্মসংস্থানের অভাব, বেকারত্বের হার বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতিও হ্রাস পায়।
করোনা মহামারির জেরে গত এপ্রিল-জুন মাসে ভারতীয় অর্থনীতি রেকর্ড ২৩.৯ শতাংশ সঙ্কুচিত হওয়ার পর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে আনলক প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছোয়। নতুন বছরে ফের একটু একটু করে বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। তাই জানুয়ারিতে দেশের বেকারত্বের হার ৯.০৬ শতাশ থেকে কমে ৬.৫৩ শতাংশ হয়েছে।





