দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। রাজনৈতিক পালাবদল, নির্বাচন বা শপথগ্রহণ—এ ধরনের প্রতিটি ঘটনাই নতুন বার্তার ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে আবারও নজর ঘুরেছে ঢাকা ও নয়াদিল্লির দিকে। কে যাচ্ছেন, কোন স্তরের প্রতিনিধি থাকছেন—এসব নিয়েই জল্পনা চলছিল বেশ কিছু দিন ধরে। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমান্তরাল পরিস্থিতি এই আলোচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
রবিবার বিকেলে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানায়, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। বিবৃতিতে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি পারস্পরিক দায়বদ্ধতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্তরের প্রতিনিধি না পাঠিয়ে স্পিকারকে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক মহলে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে দেশের বিরোধী শিবিরের একাংশ অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে—এই প্রেক্ষাপটে তাঁকেই বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। কারও মতে, প্রতিবেশী দেশে সাংবিধানিক পদাধিকারীকে পাঠিয়ে কেন্দ্র সরকার দেশের বিরোধী দলগুলোকেই সূক্ষ্ম ইঙ্গিত দিল। অন্যদিকে, কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি কেবল প্রটোকল মেনে নেওয়া একটি পদক্ষেপ, যার মধ্যে বাড়তি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা খোঁজা অপ্রয়োজনীয়।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে দুই দেশেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো সূত্র উল্লেখ করে জানায়, ভারত-সহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও ঢাকার তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছিল না। অন্যদিকে জানা যায়, ওই দিন মুম্বইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ-র সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত বৈঠক রয়েছে। ফলে মোদীর ঢাকা সফর নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR : “নির্দেশ মানা হয়নি কেন?” ভুয়ো ভোটারকাণ্ডে চার আধিকারিককে ঘিরে বিতর্ক, অবিলম্বে এফআইআর করার কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের!
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যেরা শপথ নেবেন। শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা বা দুপুর ১২টার মধ্যে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন হওয়ার কথা। বিকেল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন। সব মিলিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে এই অনুষ্ঠান যে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, তা বলাই বাহুল্য।





