Delhi University : রুচি তিওয়ারির ওপর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্রদের সহিং*সতা! গণমাধ্যমের উপর অশোভন আচরণ নিয়ে নতুন বিতর্ক!

নতুন দিল্লির শিক্ষাঙ্গনে আবারও উত্তেজনার আবহ। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আন্দোলন, স্লোগান আর রাজনৈতিক পাল্টা বক্তব্য—সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দিল্লি ইউনিভার্সিটির নর্থ ক্যাম্পাসে চলা একটি বিক্ষোভ ঘিরে এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংগঠন, সংবাদমাধ্যম এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

বিক্ষোভ কভার করতে গিয়েছিলেন মহিলা সাংবাদিক রুচি তিওয়ারি। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ৫০০ জনের একটি জনতা তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর কয়েকজন তাঁর পুরো নাম ও জাত জানতে চান। সেই মুহূর্ত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তাঁর বক্তব্য। রুচির অভিযোগ, জনতার একটি বড় অংশ তাঁকে ঘিরে ধরে এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। এমনকি তাঁর কানে ফিসফিস করে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

রুচি তিওয়ারির কথায়, একজন যুবক অন্যদের ইঙ্গিত করছিল তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং অশালীনভাবে স্পর্শ করা হয় বলেও অভিযোগ। প্রায় আধঘণ্টা ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল বলে দাবি করেন তিনি। অজ্ঞান হয়ে পড়ার কথাও জানান। যদিও কয়েকজন ছাত্র ও মহিলা পুলিশ সদস্যের সাহায্যে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ইতিমধ্যে এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানান রুচি, এবং তিনি আইনের উপর আস্থা রাখার কথাও বলেছেন।

অন্যদিকে, All India Students Association (এআইএসএ)-র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ কুমার সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইউজিসি সমর্থনে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাঝে একজন ইউটিউবার অন্য আরেকজনকে ধাক্কা দেওয়ায় বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত। তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মসূচি ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তাদের সংগঠনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh- India: ঢাকা সফরে ওম বিড়লা, বিরোধীদের উদ্দেশে কি ইঙ্গিত দিল কেন্দ্র? তারেকের শপথ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে!

এদিকে Akhil Bharatiya Vidyarthi Parishad (এবিভিপি)-র দিল্লি রাজ্য সম্পাদক সার্থক শর্মা বলেন, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদমাধ্যমের উপর হামলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর অভিযোগ, বামপন্থী রাজনীতির অংশ হিসেবে এমন সহিংসতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এবিভিপি প্রশাসনের কাছে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এআইএসএ-ও দাবি করেছে, তাদের সদস্যদেরই লক্ষ্য করে উসকানি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা বাড়ছে। কার বক্তব্য সত্য, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। তবে শিক্ষাঙ্গনে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, সে বিষয়ে একমত অনেকেই। এখন নজর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles