আজ যে দেবে আবির্ভাবের দিন, তাই মহাসমারোহে নিয়ম বিধি মেনেই চলছে স্নানযাত্রা

২০১৯ শে ফনির দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত উড়িষ্যা এবছর আবার আমফান।পাশাপাশি দুমাস ব্যাপী চলছে লকডাউন।তবুও উড়িষ্যা আজ মাতবে ওডিশার শ্রেষ্ঠ উত্‍সব রথযাত্রা উৎসবে। রথযাত্রার আগে শুক্রবার মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার স্নানযাত্রা। বলা হয়, এই তিথিতেই নাকি মর্ত্যে আবির্ভুত হয়েছিলেন দেব৷ জ্যৈষ্ঠমাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্বয়ম্ভ‌ু মনুর ‌যজ্ঞের প্রসন্ন হয়ে জগন্নাথ আবির্ভূত হয়েছিলেন।তারপর থেকেই এই তিথিকে জগন্নাথদেবের জন্মদিন হিসেবে পালন করার নির্দেশ দেন স্বয়ং মনুই। সেই জন্মদিন উপলক্ষ্যেই এই বিশেষ স্নানযাত্রার উৎসব পালন করা হয়।

প্রতি বছর দেবস্নান পূর্ণিমায় এই রীতিই চলে আসছে। মহাস্নানের আগে রত্নবেদীতেই অবস্থান করেন জগন্নাথ দেব। প্রথমে জগন্নাথ, তারপর বলরাম, শেষে সুভদ্রাকে পুষ্পাঞ্জলি দেন মন্দিরের সেবায়েতরা। তারপর তাঁদের রত্নবেদী থেকে নিয়ে যাওয়া হয় স্নানবেদীতে। সেখানে মঙ্গল আরতি ও সূর্যপুজোর পর তিনজনকে মহাস্নানের জন্য প্রস্তুত করা হয়।এরপর মন্দিরের দক্ষিণ দিকের দরজায় যে কুয়ো রয়েছে, সেই কুয়ো থেকে একশো আট ঘটি জল তুলে স্নান করানো হয় জগন্নাথ, বলরাম, শুভদ্রা। স্নানের পর জগন্নাথ ও বলরামকে হাতিবেশ বা গণেশবেশে সজ্জিত করা হয়। স্বয়ং জগন্নাথদেব মহারাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মহাস্নানের পর তাঁর অঙ্গরাগবিহীন রূপ যেন কেউ না দেখেন।সেইমত তাই স্নানযাত্রার পর থেকে ১৫ দিন পুরীর মন্দিরের দরজা জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকে।

https://www.facebook.com/Khabor24x7Official/videos/260106765311053/

কথিত আছে সমস্ত দেবদেবীরা যাতে জগন্নাথ দেবের এই স্নানযাত্রা দেখতে পান সেই জন্য মহারাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন স্না‌নযাত্রার সময় স্নানবেদীর চারদিকে রত্মশোভিত চাঁদোয়া ও আবরণবস্ত্র দিয়ে ঢেকে দিতেন। পরবর্তীকালে স্নানবেদী ভঙ্গুর হয়ে পড়লে তা নবনির্মাণ করেন শ্রীঅনঙ্গভীম দেব।

https://www.facebook.com/Khabor24x7Official/videos/686164448847292/

সুন্দর পট্টবস্ত্র দিয়ে ঢেকে জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রাকে নিয়ে আসা হয় স্নানমঞ্চে। যাত্রাপথে চামর ও তালপাতা দিয়ে বাতাস করা হয় তিন দেবতাকে। সকলে যাতে স্নানের অনুষ্ঠান ‌সবাই দর্শন‌ করতে পারেন সেজন্য পুরী মন্দিরে একটি উঁচু বেদী করা হয়েছে। যাতে পুরীর প্রশস্ত রাজপথ ‘বড়দাণ্ড’ থেকেও সকলে স্নানযাত্রা দেখতে পারেন। অবশেষে মহা সমারোহে ভোরবেলা ব্রহ্মার সঙ্গে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার স্নান সম্পূর্ণ করা হয়। তবে এই বছর লকডাউনের জন্য কিছুটা হেরফের হয়েছে নিয়মে।

কথিত আছে এই স্নানের পর জগন্নাথদেবের জ্বর আসে। জ্বর সারাতে দয়িতা-পতিরা ওষুধ অর্থাৎ মিষ্টি রসের পানা বিশেষ পাচন ও নানা ধরণের মিষ্টান্ন ভোগ দেন। এই সময়ে মন্দিরে জগমোহনের পাশে ‘নিরোধনগৃহে’ থাকেন জগন্নাথদেব। এরপর জ্বর সেরে গেলে নবকলেবরে সুসজ্জিত হয়ে দর্শন দেন তিনি। তখন সেই উৎসবকে বলা হয় নেত্রোৎসব বা নবযৌবন উৎসব।

আরও অন্যান্য খবর