আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকলেও সম্প্রতি এক বড় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নীরবতা ভেঙে হঠাৎ পাকিস্তানের হামলার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এখন এই পরিস্থিতিতে চিন্তিত হয়ে পড়েছে, কারণ এটি আবারও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আফগানিস্তানের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, পাকিস্তান এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে, যা সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রদেশের এক হাসপাতাল কর্মকর্তা বলেছেন, হামলার ফলে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। তবে, এই হামলার সবচেয়ে চরম প্রভাব পড়েছে আফগান ক্রিকেট সম্প্রদায়ে।
পাকিস্তানের হামলায় তিন জন আফগান ক্রিকেটারের মৃত্যু হয়েছে। তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচে অংশগ্রহণ করছিলেন। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই হত্যার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রসিদ্ধ ক্রিকেটার রশিদ খানও নিহত খেলোয়াড়দের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় পাকিস্তানের সঙ্গে যে ত্রিদেশীয় সিরিজের আয়োজন ছিল, আফগান বোর্ড তা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের বিষয়টি “সহজভাবে সমাধানযোগ্য”। তবে এর পরিপ্রেক্ষিতে আফগানিস্তান পালটা জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে যে তারা শান্তি চায় না, যা আফগানিস্তানের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আরও পড়ুনঃ Durgapur rape*case : আট দিনের লড়াই শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন দুর্গাপুরের নির্যা*তিতা! বর্তমানে কোথায় রয়েছেন তিনি?
আফগানিস্তানের ইতিহাসে বহু শক্তিধর দেশের আগমন এবং ব্যর্থতা ঘটেছে। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন, ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বে হামলা – প্রতিটি শক্তি শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের কঠোর ভূখণ্ডে পরাজয় বরণ করেছে। তাই ইতিহাস থেকেই জানা যায়, আফগানিস্তানকে ‘সাম্রাজ্যের কবরস্থান’ হিসেবে মনে করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতি এই দীর্ঘ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে, যেখানে পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।





