শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংগঠিত অপ’রাধচক্র যখন বিশ্বাস, বন্ধুত্ব বা প্রলো’ভনকে হাতিয়ার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ফাঁ’দে ফেলে, তখন সেই অপরাধ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় থাকে না, তা সমাজের জন্যও গভীর সংকট তৈরি করে। সাম্প্রতিক একটি বিতর্ক ফের সেই পুরনো ক্ষ’তকে সামনে এনে দিয়েছে, যেখানে বহু তরুণী ও কিশোরীর জীবনে নেমে এসেছিল অকল্পনীয় অন্ধকার। নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তথাকথিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’ কেলে’ঙ্কারি। বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে যখন ব্রিটিশ সাংসদ রুপার্ট লো পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
তাঁর দাবি, যৌ’ন শো’ষণমূলক অপরাধে জড়িত পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পুরুষদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং যাঁরা বিদেশি নাগরিক, তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। এই পদক্ষেপের ঠিক আগে একটি স্বাধীন তদন্তভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে একাধিক নির্যা’তিতার অভিজ্ঞতা এবং অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সেই প্রতিবেদন ঘিরেই আবার শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের অপ’রাধচক্র সাধারণত স্কুলপড়ুয়া বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা কিশোর-কিশোরীদের লক্ষ্যবস্তু করে।
প্রথমে বন্ধুত্ব, উপহার কিংবা বিশেষ যত্নের মাধ্যমে তাদের বিশ্বাস অর্জন করা হয়। পরে ধীরে ধীরে ম’দ, সিগা’রেট বা অন্যান্য নে’শাজাতীয় দ্রব্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। একসময় সেই নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে শুরু হয় শারীরিক ও যৌ’ন শো’ষণ। বিভিন্ন ভুক্তভোগীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, তাঁদের অনেককে একাধিক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হতো এবং দীর্ঘ সময় ধরে নির্যা’তনের শিকার হতে হয়েছে। কিছু অভিযোগে ধর্মান্তরণের চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও প্রতিটি অভিযোগের বিচারিক সত্যতা পৃথকভাবে প্রমাণের বিষয়, তবু ঘটনাগুলির বর্ণনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুপার্ট লো কয়েকজন নির্যা’তিতার জবানবন্দির অংশ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, অনেক ভুক্তভোগী মনে করেন যে তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে জাতিগত এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। কিছু নির্যা’তিতা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের শ্বেতাঙ্গ এবং অমুসলিম পরিচয়কে অপমানজনক মন্তব্যের মাধ্যমে বারবার হেয় করা হতো। লো আরও জানান, তাঁর টিম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে আলোচিত এই ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
এই ইস্যুতে চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন শিল্পপতি ইলন মাস্ক এবং লেখিকা জে কে রাউলিংওa প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, যার ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনায় আসে। সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি বেসরকারি অর্থায়নে তৈরি তদন্ত প্রতিবেদন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে বহু বছর ধরে সংগঠিত এই অপরাধচক্রের কারণে বিপুল সংখ্যক তরুণী ও মহিলা যৌ’ন নি’র্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখিত কয়েকটি সাক্ষ্যে বলা হয়েছে, কিছু নির্যাতিতাকে একাধিক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হতো এবং মাদক প্রয়োগ করে তাঁদের ওপর অত্যা’চার চালানো হতো।
আরও পড়ুনঃ পর্দায় নয়, এবার বাস্তবেও প্রেমে পড়লেন মৈনাক? প্রেমিকাও নাকি সুন্দরী অভিনেত্রী, চেনেন তাঁকে?
এমনই এক তরুণীর দাবি, তাঁকে শত শত বার নির্যা’তনের শিকার হতে হয়েছে এবং বিভিন্ন গাড়িতে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হতো। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত পরিসংখ্যান এবং দাবিগুলির একটি বড় অংশ এখনও সরকারি ভাবে স্বীকৃত বা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়। তবুও বিষয়টি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, এই সমগ্র বিতর্ক এবং তদন্ত ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রিটেনে বহু বছর ধরে আলোচিত ‘পাক গ্রুমিং গ্যাং’ কেলেঙ্কারি, যা ফের দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।






