১০০-২০০ নয়, একেবারে ১৫ লক্ষ টাকা। এত টাকা যদি এখনকার দিনে কেউ হঠাৎ করে হাতে পায়, তাহলে নিঃসন্দেহে তার মনে যে লোভ জাগবে, তেমনটাই স্বাভাবিক। এমনই রাস্তায় ১৫ লক্ষ টাকা পেলেন এক রিকশা চালক। আর সেটা নিয়ে তিনি যা করলেন, তা নজিরবিহীন।
জানা গিয়েছে, ওই রিকশা চালকের নাম নূর আলি। ৪০ বছর বয়সী এই রিকশা চালক বাগুইআটির জোড়ামন্দির এলাকায় রিকশা চালান তিনি। রোজকার মতো এদিনও রিকশা নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় চিনার পার্কের কাছে রাস্তায় চারটি চেক পড়ে থাকতেন দেখেন তিনি। সেগুলি কুড়িয়ে বুঝতে পারেন চেকগুলি বেশ মোটা অঙ্কের।
এরপরই তিনি চেকগুলি নিয়ে সোজা চলে যান স্থানীয় পাঞ্জাব ন্যাশানাল ব্যাঙ্কের শাখায়। ব্যাঙ্ক থেকেই যোগাযোগ করা হয় পুলিশে। এরপর পুলিশ ব্যাঙ্কে পৌঁছলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কথা মতোই একগুলি পুলিশের হাতে তুলে দেন ওই রিকশা চালক। ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, ওই চারটি চেক মিলিয়ে মোট ১৫ লক্ষ টাকা ছিল। আর এত টাকা হাতে পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়ে নূর আলি যে সততার পরিচয় দিলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
সূত্রের খবর, নূর আলির আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। রিকশা চালিয়েই সংসার চালান তিনি। পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও দুই সন্তান। অনেক কষ্টে সংসারের ঘানি টেনে ছেলেমেয়েদের মানুষ করছেন তিনি। কিন্তু তারপরও এত টাকা দেখে লোভ হয়নি তাঁর। স্থানীয় সূত্রে খখবর, নূর আলি এলাকায় খুব ভালো মানুষ বলেই পরিচিত। প্রায়ই মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি।
অন্যদিকে, ওই চার চেকের আসল মালিককে খুঁজতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সামনে আসে আসল মালিকের নাম। পুলিশ সূত্রে খবর, পঞ্জাব ন্যাশানাল ব্যাঙ্কের পূর্বাচল শাখার ওই চেকগুলি একজনের নামে ইস্যু করা হয়েছিল। সেই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। প্রমাণ খতিয়ে দেখে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় ওই চেকগুলি।
আরও পড়ুনঃ থ্রেট কালচারে অভিযুক্ত সাসপেন্ড হওয়া চিকিৎসক পড়ুয়াদের বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট
তবে রিকশা চালক যে এত টাকার লোভ না করে চেকগুলি এভাবে ফিরিয়ে দিলেন, তার প্রশংসা করেছেন সকলে। তাঁর সততায় মুগ্ধ পুলিশ প্রশাসন। এই বিষয়ে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমার বলেন, এই ঘটনা থেকে প্রমাণ হয়যে সমাজে এখনও কিছু সৎ মানুষ রয়েছেন।





