দুর্নী’তি নিয়ে বি’স্ফোরক মন্তব্যের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ! দিল্লির বঙ্গভবনে ঠিক কী কথা হয়েছিল, কেনই বা ‘গোপন বৈঠক’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন ঋতব্রত?

বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন প্রতিদিনই নতুন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই শাসকদল এবং বিরোধী শিবির দুই দিক থেকেই একাধিক নেতা-মন্ত্রী নানা ইস্যুতে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন। কখনও দলের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কখনও আবার রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হচ্ছে জল্পনা। এমন পরিস্থিতিতেই এবার নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

কয়েকদিন আগেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, দুর্নীতির বিষয়ে মুখ না খুলতে তাঁকে দলের তরফে চাপ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অন্দরে যথেষ্ট আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের খবর সামনে আসতেই নতুন করে জল্পনা বাড়তে থাকে। কারণ, একসময় সিপিএমের রাজনীতি করা ঋতব্রত পরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন এবং বহুবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসাও করেছিলেন প্রকাশ্যে। এমনকি তাঁকে ‘চৈতন্যদেবের উত্তরাধিকারী’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি ভাইরাল হতেই কি বদলে গেল ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতার জীবন? কে বা কারা বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে খুনে’র হুম’কি দিচ্ছে বিক্রম সাউকে?

এই আবহেই দিল্লির বঙ্গভবনে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঋতব্রতের দেখা হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। জানা গিয়েছে, সেদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। সেই বৈঠকের আগে বঙ্গভবনে তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা হয়। আর সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে গোপন বৈঠকের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে তৃণমূলের একাংশের নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে যখন চাপানউতোর চলছে, তখন ঋতব্রতের এই সাক্ষাৎ অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।

তবে গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ঋতব্রত নিজেই। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টিকে অকারণে বাড়িয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি তখন বঙ্গভবন থেকে নিচে নামছিলেন। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে দেখে শুভেচ্ছা জানান। এরপর দু’জনের মধ্যে খুব স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়। ঋতব্রতের দাবি, তিনি শুভেন্দুকে জানান যে নিজের বাংলো ছেড়ে দিতে এসেছেন। তখন শুভেন্দু তাঁকে বিরোধী বিধায়কদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথাও বলেন। উত্তরে তিনি জানান, খবর পেলে তিনি যাবেন। পুরো ঘটনাটি মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ছিল বলেই দাবি করেছেন ঋতব্রত।

এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। যদিও গোটা বিতর্ক নিয়ে খানিক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, অনেকেই ফোন করে জানতে চাইছেন তিনি নাকি শুভেন্দুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করতে দিল্লি গিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, তিনি কেন দিল্লিতে এসেছেন, সংসদের নথিতেই তার তথ্য রয়েছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের সৌজন্য বিনিময়কে কেউ যদি ‘গোপন বৈঠক’ বলতে চান, তাতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। তবে এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

আরও অন্যান্য খবর