‘আজও আমার কাছে জীবিত উত্তমদা, উনি আমার কাছে মা’রা যাননি! তাহলে স্মৃতিচারণা কেন?’ মহানায়কের জন্মশতবর্ষে আবেগঘন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। মহানায়কের প্রয়াণের চার দশকেরও বেশি সময় কেটে গেলেও বাঙালির মনে তাঁর জায়গা এখনও একই রকম। সাবিত্রীর কথায়, উত্তম কুমারের কোনও ছবি দেখতে বসলেই তাঁর মনে হয়, মানুষটি যেন এখনও জীবন্ত। তাই তাঁকে নিয়ে আলাদা করে স্মৃতিচারণ করার কথাটাই তাঁর কাছে অদ্ভুত লাগে।

উত্তম কুমারের সঙ্গে একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের একসঙ্গে কাজ করা ছবির তালিকায় রয়েছে ‘বসু পরিবার’, ‘কল্যাণী’, ‘রাইকমল’, ‘নবজন্ম’, ‘মরুতীর্থ হিঙ্গলাজ’ এবং ‘নিশিপদ্ম’-এর মতো ছবি। সাবিত্রী জানান, উত্তমদার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে সবসময়ই বিশেষ। নির্দিষ্ট কোনও জুটি হিসেবে তাঁদের পরিচিতি তৈরি না হলেও একসঙ্গে অনেক ছবিতে কাজ করেছেন তাঁরা।

মহানায়ক সম্পর্কে সাবিত্রীর বক্তব্য, উত্তম কুমার ছিলেন সত্যিকারের জাত অভিনেতা। প্রতিটি চরিত্র বুঝে তার সঙ্গে মানিয়ে অভিনয় করার ক্ষমতা ছিল তাঁর। একসঙ্গে কাজ করার সময় দুজনেই একে অপরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়েছেন বলেও জানান অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, উত্তম কুমার বাংলা ছবির জগৎকে যে অবদান দিয়ে গিয়েছেন, তার সঙ্গে তুলনা করার মতো আর কাউকে তিনি দেখেননি।

নিজের অভিনয় জীবন নিয়েও কথা বলেছেন সাবিত্রী। তাঁর মতে, হয়তো তাঁর মধ্যে সেই অর্থে গ্ল্যামার বা রূপ ছিল না, কিন্তু অভিনয়ের জোরেই তিনি দীর্ঘদিন কাজ করে গিয়েছেন। সেই পথ চলায় উত্তম কুমারের সহযোগিতাও পেয়েছেন। শুধু সহকর্মী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও উত্তমদাকে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। উত্তম কুমারের পরিবার, বাবা ও মায়ের সঙ্গেও তাঁর সুন্দর সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের তিনি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতেন।

আরও পড়ুনঃ “বাথরুম ব্যবহার করতে দেব না, যা করার খাটেই করবে!” অতিরিক্ত ইংরেজি থেকে শুরু করে অকথ্য ভাষায় ঝা’মেলা, তনুশ্রী-ভরতের বচসার পরেই বিগ বসের কড়া নির্দেশ! ঘরে এবার শুধু কী বলতে হবে, বলা যাবে না কী কী?

উত্তম কুমারকে কে কী নামে ডাকলেন, মহানায়ক বা মহা হিরো বললেন কি না, তা নিয়ে সাবিত্রীর কোনও আগ্রহ নেই। তাঁর কাছে উত্তমদার সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি একজন অসাধারণ শিল্পী ছিলেন। আজও তাঁর কোনও ছবি চোখের সামনে এলে মনে হয় উত্তম কুমার যেন পর্দায় নয়, বাস্তবেই রয়েছেন। তাই অভিনেত্রীর প্রশ্ন, যাঁকে এখনও এতটা জীবন্ত মনে হয়, তাঁকে নিয়ে আবার আলাদা করে স্মৃতিচারণ করার প্রয়োজনটাই বা কোথায়?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর