“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতিতে বড় বদলের ছবি সামনে এসেছে। বহু বছরের পুরনো সমীকরণ ভেঙে একাধিক কেন্দ্রে নতুন ফল দেখা গিয়েছে। ঘাসফুলের শক্ত ঘাঁটিতেও পদ্মফুলের উত্থান এখন আলোচনার কেন্দ্রে। রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখও এই ফল নিয়ে মত জানাতে শুরু করেছেন। সমাজমাধ্যমেও চলছে নানা প্রতিক্রিয়া, আলোচনা এবং বিতর্ক। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল বেড়েছে, কোন তারকা কী বলছেন তা জানতে। এই আবহেই বাংলার ভোটের ফল নিয়ে সরব হলেন গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ স্পষ্ট জানান, বাংলার এই ফলাফল তাঁকে খুশি করেছে। তিনি বলেন, “আমি হিন্দুস্থান চাই। যারা হিন্দুদের দেখবে, আমি তাদের সমর্থন করব।” বাংলায় বিজেপির আসন বৃদ্ধির কারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, কেন এই উত্থান হল, তা বিশ্লেষণ করা তাঁর কাজ নয়। তবে কোনও রাজনৈতিক দলকে তিনি ব্যক্তিগত শত্রু হিসেবেও দেখেন না বলে জানান। তাঁর মতে, ভোটের মাধ্যমে মানুষ নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন এবং সেই রায়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নির্বাচনের ফলকে তিনি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই তাঁর অবস্থান নিয়ে মত প্রকাশ করতে শুরু করেন।

সমাজমাধ্যমেও অভিজিৎ একটি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি লেখেন, “ধর্মের নামে অনেকেই ভুল বোঝাবে। আগে গর্ব করে বলো, আমি হিন্দু।” এই পোস্ট সামনে আসার পর নেটমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার অনেকে কড়া সমালোচনাও করেছেন। পরে আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ছোটবেলার একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। অভিজিৎ জানান, ছোটবেলায় হিন্দি বললে তাঁর মা বলতেন, “হিন্দি বলছ কেন! আমরা হিন্দু নই, আমরা বাঙালি।” সময়ের সঙ্গে তাঁর চিন্তাভাবনা বদলেছে বলেও জানান তিনি। সেই কারণেই এখন তাঁর বক্তব্য, “আমরা আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি।”

নিজের মতের সমর্থনে তিনি বাংলাদেশের উদাহরণও টানেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশেও বহু মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন, তাই শুধু ভাষা দিয়ে পরিচয় নির্ধারণ করা যায় না। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় পরিচয়ও একজন মানুষের বড় পরিচয় হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ভারত কোনও দিনই প্রকৃত অর্থে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ছিল না। আমাদের ভুল বোঝানো হয়েছে। এটা হিন্দুদের দেশ।” এই মন্তব্য ঘিরেও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। আবার অনেকে মনে করছেন, এমন মন্তব্য সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে। ফলে তাঁর প্রতিটি মন্তব্যই এখন নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে।

আরও পড়ুনঃ “আর রাজনীতিতে বেশি না, আগের মতো মন দিয়ে অভিনয়টাই করতে চাই” তৃণমূল হারের পর বড় সিদ্ধান্ত! বিধানসভা ভোটে ধাক্কার পর রাজনীতি ছাড়ার বার্তা দেবের? টলিপাড়ায় জোর জল্পনা!

সাক্ষাৎকারে তাঁকে আরও প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি তিনি অন্য ধর্মের মানুষের বিরোধী? উত্তরে অভিজিৎ বলেন, “মুসলিম আমার বন্ধু হতেই পারেন, কিন্তু আমার ভাই হিন্দু।” এই মন্তব্যও দ্রুত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ভবিষ্যতে শাহরুখ খান, সলমন খান বা আমির খানের ছবিতে গান গাইবেন কি না। তবে সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর তিনি দেননি। বাংলার ভোটের ফলকে ঘিরে তাঁর ধারাবাহিক মন্তব্য এখন রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক দুই ক্ষেত্রেই আলোচনার বিষয়। নির্বাচনের পর নতুন বিতর্কের যে পর্ব শুরু হয়েছে, তা এই ঘটনাতেই স্পষ্ট। আগামী দিনে এই মন্তব্য নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles