দেশজুড়ে কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত জানাল সুপ্রিম কোর্ট। টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট বা TET পাশ করা এবার বাধ্যতামূলক বলেই স্পষ্ট করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। তবে একইসঙ্গে কিছুটা স্বস্তিও মিলেছে বহু শিক্ষকের। আগে যেখানে ২০২৭ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে এই যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা পাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এবার সেই সময়সীমা আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে যাঁরা এখনও TET পাশ করেননি, তাঁরা প্রস্তুতির জন্য আরও কিছুটা সময় পাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশের লক্ষাধিক প্রাথমিক শিক্ষক এই রায়ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে সেই সব শিক্ষকদের উপর, যাঁরা TET বাধ্যতামূলক হওয়ার আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গেই এমন প্রায় ১ লক্ষ শিক্ষক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সারা দেশে সেই সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ। এতদিন ধরে তাঁরা নিয়মিত পড়াচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষায় বসা প্রয়োজন বলে মত আদালতের। এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, দেশের সমস্ত কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে TET পাশ করতেই হবে। এবার সেই অবস্থানেই অনড় থাকল আদালত। তবে সময়সীমা বাড়িয়ে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া হয়েছে শিক্ষকদের।
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এদিন জানিয়ে দেয়, ২০২৮ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে সকল কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষককে এই পরীক্ষা পাশ করতে হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, শুধু বহু বছর ধরে পড়াচ্ছেন বলেই কাউকে এই পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়া যাবে না। কারণ, শিক্ষার মান বজায় রাখতে শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা জরুরি। আদালতের মতে, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে গেলে শিক্ষকদের দক্ষতা যাচাই প্রয়োজন। তাই নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে কর্মরত শিক্ষকদেরও।
এই মামলায় আদালতের আগের নির্দেশের বিরুদ্ধে একাধিক রিভিউ পিটিশন জমা পড়েছিল। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতাই তাঁদের যোগ্যতার প্রমাণ। তাই নতুন করে TET পরীক্ষায় বসার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হোক। কিন্তু সেই আবেদন গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান শিক্ষানীতির নিরিখে নির্দিষ্ট যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষাকে এড়ানো যাবে না। তবে যাঁদের অবসরের আর মাত্র পাঁচ বছর বাকি রয়েছে, তাঁদের এই পরীক্ষায় বসা থেকে আগেই ছাড় দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে বলেই জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “জোর করে সম্পর্ক হয় না…” এবার নিজের মতো করেই বাঁচার সিদ্ধান্ত স্বস্তিকা দত্তের! অভিনেত্রীর পোস্টে মিলল কি বিচ্ছেদের ইঙ্গিত?
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ এবং আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক মহলে। বহু শিক্ষকই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের চাকরির পর আবার পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে না। বিশেষ করে যাঁদের বয়স অনেকটাই বেড়েছে, তাঁদের কাছে বিষয়টি চ্যালেঞ্জের। অন্যদিকে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদের দক্ষতা যাচাই হওয়া প্রয়োজন। এখন রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দফতরের দিকে নজর থাকবে, কীভাবে এই পরীক্ষা আয়োজন করা হয় এবং এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে কীভাবে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হয়।






