ভারতে ব্ল’ক ককরোচ জনতা পার্টির X অ্যাকাউন্ট! আদালতে যেতেই বড় মন্তব্য দিল দিল্লি হাইকোর্ট, “কিছু কনটেন্ট আপত্তিকর” তাহলে কি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়াই বাড়াল বিত’র্ক?

সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে নিয়ে এবার বড় আইনি জটিলতা তৈরি হল দিল্লি হাইকোর্টে। দলের এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে ব্লক করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তবে আপাতত তাঁকে কোনও তাত্ক্ষণিক স্বস্তি দিল না আদালত। শুক্রবার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকার এবং এক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না শুনে এখনই কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে রাজি নয় আদালত। একইসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত কিছু বিষয়বস্তু ‘কিছুটা আপত্তিকর’ বলেও মনে হয়েছে।

এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি পুরুষীন্দ্র কুমার কৌরভের বেঞ্চে। আবেদনকারী অভিজিৎ দীপকের দাবি, কোনও স্পষ্ট কারণ না জানিয়েই তাঁদের এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে আটকে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংগঠনের মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। আদালতে তাঁর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী অখিল সিবাল। তিনি বলেন, অন্তত অ্যাকাউন্টটি ফের চালু করা হোক। যদিও অভিযোগ ওঠা কিছু পোস্ট সরিয়ে রাখতে তাঁদের আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি। নিজের দাবির পক্ষে আগের কয়েকটি মামলার উদাহরণও তুলে ধরেন সিবাল। তাঁর বক্তব্য, অতীতেও এ ধরনের ঘটনায় আদালত অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিয়েছে।

তবে দিল্লি হাইকোর্ট এই মামলাকে অন্যভাবে দেখছে বলেই স্পষ্ট হয়েছে শুনানিতে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র একটি বা দু’টি পোস্ট নয়, গোটা কার্যকলাপের মধ্যেই কিছু আপত্তিকর উপাদান রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণেই এখনই কোনও চূড়ান্ত বা অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না আদালত। যদিও সম্পূর্ণ দরজা বন্ধ করে দেয়নি বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যম সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য যে পুনর্বিবেচনা কমিটি রয়েছে, সেখানে আবেদনকারী নিজের বক্তব্য জানাতে পারবেন। অর্থাৎ আদালত আপাতত সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও বিকল্প আইনি পথ খোলা রাখছে।

এই মামলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ মূলত ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই গোষ্ঠী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট, মিম এবং মন্তব্যের মাধ্যমে তারা দ্রুত পরিচিতি পায়। এমনকী ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসরণকারীর সংখ্যা দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিজেপির থেকেও বেশি বলে দাবি করা হয়। সম্প্রতি এক্স অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে “ভারতে এই অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে” বলে একটি বার্তা দেখতে পান ব্যবহারকারীরা। সেই স্ক্রিনশট পোস্ট করেই অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছিলেন, প্রত্যাশামতোই তাঁদের অ্যাকাউন্ট আটকে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়?” প্রায় ৩০ লক্ষ কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষককে ফের যোগ্যতা প্রমাণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, তাহলে কি বদলে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগের পুরনো নিয়ম?

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সংগঠনের জন্মও হয়েছিল একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। দেশের যুবসমাজকে ‘আরশোলা’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে এমন অভিযোগ ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তারই প্রতিবাদ ও ব্যঙ্গের জায়গা থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সূচনা। পরে ধীরে ধীরে বহু তরুণ নিজেদের এই পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে শুরু করেন। শুধু এক্স নয়, দলের ইনস্টাগ্রাম পেজ এবং ওয়েবসাইট নিয়েও একই ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন নজর পরবর্তী শুনানির দিকে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং এক্স কর্তৃপক্ষ আদালতে কী ব্যাখ্যা দেয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত মামলার ভবিষ্যৎ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর