রাজ্য রাজনীতি ফের সরগরম। ভোটের আবহে ফের সামনে এল এক ভিডিও, যা ঘিরে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। রাজনৈতিক মহল বলছে, এই মন্তব্য রাজ্যের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দল দাবি করেছে, রাজ্যের সরকারি কর্মীদের হুমকি দিয়ে ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে চাইছে শাসক দল।
শুক্রবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্স- এ একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায়, তৃণমূলের কোচবিহার জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ একটি সভায় বক্তব্য রাখছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “বিএলওরা যদি ২০০০ সালের সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা না আনেন, আমরা তাকে বেঁধে রাখব। অভিষেক আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।” এই কয়েকটি বাক্য প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজনৈতিক মহল।
বিজেপির দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন মন্তব্য নয়, বরং প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভয় দেখিয়ে ভোটের প্রস্তুতিতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। বিজেপি নেতা তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভিডিওটি শেয়ার করে লেখেন, “তৃণমূল এখন খোলাখুলিভাবে সরকারি কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। এই মন্তব্যের জন্য অবিলম্বে FIR হওয়া উচিত।” বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্য পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের কথাও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের বক্তব্য, ভিডিওটি বিকৃত করা হয়েছে এবং তা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ আসলে প্রশাসনিক তৎপরতার ওপর জোর দিচ্ছিলেন, হুমকির ভাষা ব্যবহার করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি ভালো নেই, ঘরবাড়ি কাজ সব কেড়ে নিয়েছে…আমি অসুস্থ হয়ে পড়ছি’- বর্তমানে সর্বহারা শ্রীলেখা মিত্র! কি অবলম্বন করে বেঁচে আছে অভিনেত্রী?
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসনের তরফে ঘটনার সত্যতা যাচাই শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। নির্বাচনের মুখে এই ধরনের মন্তব্যে যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতেই এই অভিযোগের যথাযথ তদন্ত জরুরি। এখন দেখার, বিজেপির দাবির পর সত্যিই FIR হয় কি না, না কি ঘটনাটি রাজনৈতিক বচসার মধ্যেই হারিয়ে যায়।






