বাক্‌স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক! ফাঁ’সির তত্ত্ব ঘিরে দুই পাক ইউটিউবারের অন্তর্ধান!

আজকের যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার (social media) কনটেন্ট ক্রিয়েটররা(content creator) আর কোনও ভৌগোলিক সীমারেখা মানেন না। তাঁদের কাজের পরিসর সীমাহীন। তারা বিভিন্ন বিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে চলেছেন। কখনও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কখনও অর্থনৈতিক অবস্থা বা কখনও বিনোদনমূলক ভিডিওর মাধ্যমে তাঁরা বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেন। কিন্তু এই কাজ অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যেমনটা ঘটেছে দুই পাকিস্তানি ইউটিউবার সানা আমজ়াদ এবং শোয়েব চৌধরির ক্ষেত্রে।

সানা এবং শোয়েব তাঁদের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে পাকিস্তানের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতেন। তাঁদের ভিডিওগুলিতে মাঝেমধ্যে ভারতের প্রসঙ্গও উঠে আসত। সানা একাধিকবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করেছেন এবং ভারতকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করে ভারতের উন্নয়নের দিকটি দেখিয়েছেন। তাঁর একটি ভিডিও, যার শিরোনাম ছিল “মোদী সাড্ডা শের হ্যায়”, বিশেষভাবে বিতর্ক তৈরি করেছিল। এতে তিনি কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের জন্য মোদী সরকারের প্রশংসা করেছিলেন। এই ধরনের ভিডিওর জন্য সানা এবং শোয়েব দুইজনকেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। পাকিস্তানের কিছু নেটাগরিক তাঁদের দোষারোপ করেন যে, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের মানহানি করছেন এবং বেশি ‘লাইক’ ও ‘সাবস্ক্রাইবার’ পাওয়ার আশায় ভারতের প্রশংসা করছেন।

তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন সানা এবং শোয়েব ১৯ দিন ধরে কোনও ভিডিও আপলোড করেননি। তাঁদের চ্যানেল নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় তাঁদের অনুরাগীরা সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর জানা যায়, তাঁরা দু’জনেই নিখোঁজ। এর পর থেকেই তাঁদের ফাঁসির খবর চাউর হয়। দাবি ওঠে, পাকিস্তানের সামরিক প্রশাসন তাঁদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য শাস্তি দিয়েছে। এমনকি খবর ছড়ায়, সানা এবং শোয়েবকে ছাড়াও আরও ১২ জন ইউটিউবারকে একইভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

তবে এই খবরকে ভুয়ো বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানি সাংবাদিক আরজু কাজ়মি। তিনি এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তান প্রশাসন সানা এবং শোয়েবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলেও তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবর অসত্য। আরজুর মতে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে এবং তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্কে কোনও ভুল তথ্য ছড়ানো উচিত নয়। পাকিস্তানের কিছু নেটাগরিকও এই দাবিকে সমর্থন করেছেন।

আরও পড়ুনঃ কুয়াশার দাপটে রাজ্যজুড়ে সতর্কতা! উত্তরের পাহাড়ে বৃষ্টি-তুষারপাতের পূর্বাভাস!

কিন্তু সানা এবং শোয়েবের অন্তর্ধান নিয়ে জল্পনা এখনও শেষ হয়নি। তাঁদের অনুরাগীরা আশঙ্কা করছেন, বাকস্বাধীনতার জন্য শাস্তি পেতে হয়েছে তাঁদের। এর ফলে পাকিস্তানি ইউটিউব সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সমাজমাধ্যমে পাকিস্তানের বাক্‌স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁদের অনুরাগীরা এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন—এই দুই ইউটিউবার কি ফিরে আসবেন, নাকি সত্যিই তাঁরা ইতিহাসের অন্ধকার পাতায় হারিয়ে গেলেন?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles