US Iran : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ছায়া? মার্কিন নৌবহর মোতায়েনের ইঙ্গিতে যে কোনও হামলাতেই পাল্টা আঘাতের বার্তা ইরানের!

পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ফের জমাট বাঁধছে অশান্তির মেঘ। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে, যা স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এই অঞ্চলে বড় শক্তিগুলির সামান্য নড়াচড়াও মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। সেই আবহেই আবার সামনে এল আমেরিকা ও ইরানের মুখোমুখি অবস্থানের সম্ভাবনা, যা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা জাগাচ্ছে।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ঘিরে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার দিকে বড় আকারের মার্কিন নৌবহর এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে সরাসরি হামলার কথা না থাকলেও, “প্রয়োজনে ব্যবহার করা হতে পারে”—এই মন্তব্যই নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। দাভোস থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ইরানের উপর কড়া নজর রাখছে ওয়াশিংটন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, সংঘর্ষ এড়ানোই তাঁর লক্ষ্য, তবু সামরিক প্রস্তুতির এই বার্তা পরিস্থিতিকে হালকা হতে দেয়নি।

এর জবাব দিতে দেরি করেনি তেহরান। শুক্রবার সংবাদসংস্থাকে ইরানের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ইরানের উপর ছোট বা বড়—যে কোনও হামলাকেই যুদ্ধ হিসেবে ধরা হবে। তাঁর কথায়, আর কোনও “সংযমী প্রতিক্রিয়া” দেখানোর সময় নেই। সামান্যতম আঘাতের জবাবেও কড়া প্রত্যাঘাত করা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আধিকারিকের দাবি, ইরানের সার্বভৌমত্ব বা ভূখণ্ডের অখণ্ডতা লঙ্ঘিত হলে পাল্টা আঘাত অনিবার্য।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়েছে, ইরান এখন সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সামরিক বাহিনীকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি চলছে। যদিও ঠিক কী ধরনের হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে বা কী ধরনের পাল্টা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি ওই আধিকারিক। তবে তাঁর মন্তব্যে পরিষ্কার, দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার সামরিক হুমকির মুখে থাকা দেশ হিসেবে ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না।

আরও পড়ুনঃ West Bengal : নোটিস পাওয়ার পরও ৩ লক্ষের বেশি ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার শুনানিতে হাজিরা দেননি! এবার কি নাম বাদ পড়তে চলেছে? কি জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন?

এর আগেও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়লে আমেরিকা সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে, যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা ছিল প্রতিরক্ষামূলক। কিন্তু গত বছর ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প ঘিরে সরাসরি হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ফের গোটা পশ্চিম এশিয়াকে যুদ্ধের দোরগোড়ায় ঠেলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিকে—এই উত্তেজনা কি শেষ পর্যন্ত কথাবার্তায় থামবে, না কি সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles