স্বামীকে হেনস্থার প্রতিবাদ করেছিলেন মহিলা। তার জেরে মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হতে হল তাঁকে। এক পণ্যবাহী গাড়ি নির্মমভাবে পিষে দিল মহিলাকে। নিজের প্রাণ খোয়ালেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, রবিবার রাতে নদিয়ার তাহেরপুর থানা এলাকায়। এদিন অন্যান্যদিনের মতোই স্থানীয় ওষুধ বিক্রেতা সুজন বিশ্বাস দোকান করে স্ত্রী তন্দ্রা বিশ্বাসকে নিয়ে বাইকে করে ফিরছিলেন। সেই সময় কুয়াশার কারণে চশমার কাচ ঘোলা হয়ে যায় ওই ওষুধ বিক্রেতার স্ত্রী। ফলে খামার শিমুলিয়া এলাকায় স্বামীর বাইকে বসেই চশমা পরিষ্কার করছিলেন তিনি। চশমা হাত ফসকে মাটিতে পড়ে যায়। সেই সময় সেখানে আসে একটি ইঞ্জিন ভ্যান চলে আসে।
বাইক দাঁড়িয়ে থাকায় যাতায়াতে সমস্যা হয়। এভাবে বাইক দাঁড় করানো নিয়ে ওষুধ ব্যবসায়ীর সঙ্গে বচসা বাঁধে ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালকের। দুজনেই ফোন করে আরও লোকজন ডাকেন। ইঞ্জিন ভ্যান চালক যাদের ডেকেছিলেন, তাদের মধ্যে একজন পিকআপ ভ্যান চালক ছিলেন।
দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে কথা কাটাকাটি। এরপর মিটমাটও হয়ে যায়। কিন্তু আচমকাই পিকআপ ভ্যান চালক গাড়ির গতি বাড়িয়ে এগিয়ে আসেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়ির হেডলাইট নিভিয়ে ওষুধ ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে পিষে দেন বলে অভিযোগ। ওই মহিলা-সহ আরও দুজন চাপা পড়ে যান। তড়িঘড়ি তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় শক্তিনগর হাসপাতালে। কিন্তু ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ওই চালক ঘটনাস্থলে গাড়ি রেখেই চম্পট দেয়।
ওই গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন ওষুধ ব্যবসায়ী। তিনি জানান, “ভেবেছিলাম সমস্যা মিটে গেছে। কিছুক্ষণ পর দেখি ওই চালক হেডলাইট নিভিয়ে গাড়িটিকে দ্রুত ছুটিয়ে আনছেন। স্থানীয়রাও গোটা ব্যাপারটা দেখেছেন। কয়েকটি বাইক রাখা ছিল সেখানে। গাড়িটি ভিড় লক্ষ্য করে এসে আমার স্ত্রী-সহ আরও দু’জনকে ধাক্কা মারে। সবাই ঘটনায় অবাক হয়ে যান। কেউ কেউ ছিটকে পড়েন। তারপর গাড়িটি চোখের সামনে আমার স্ত্রীকে পিষে দিয়ে চলে যায়। পুরোটাই পরিকল্পনা করে খুন”।
আরও পড়ুনঃ ‘শ্রেয়ার গান যথাযথ, এই রাজ্যে শিল্পীর স্বাধীনতা আছে, অন্য রাজ্যে নেই…’, আর জি কর কাণ্ড নিয়ে বাঁধা শ্রেয়া ঘোষালের প্রতিবাদী গানকে স্বাগত কুণালের
এই ঘটনা প্রসঙ্গে রানাঘাটের এসডিপিও শৈলজা দাস বলেন, “চালকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। ওই চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও কেউ জড়িত কিনা এই ঘটনায়, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে”।






