প্রায় চারদিন নিখোঁজ থাকার পর বিজেপির দলীয় কার্যালয় থেকেই উদ্ধার হয়েছিল বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ। তাঁর পরিবারের লোকজনের দাবী ছিল, এটি আসলে রাজনৈতিক খুন। তবে এবার সামনে এল সত্যি। বিজেপি কর্মীর খুনের ঘটনায় ধৃত এক মহিলা। ব্লেড দিয়ে বিজেপি কর্মীর যৌনাঙ্গ চিড়ে তাঁকে খুন করেছেন তিনি, স্বীকার মহিলার। কেন এমন নৃশংসতা?
জানা গিয়েছিল, গত ৪ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন উস্তির বিজেপি কর্মী তথা বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার সোশাল মিডিয়া কনভেনর পৃথ্বীরাজ নস্কর। গত শুক্রবার রাতে বাড়ির কাছের বিজেপি কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয় ওই বিজেপি কর্মীর রক্তাক্ত দেহ। বিজেপি কর্মীর বাবার দাবী ছিল, শাসক দলের হাতেই খুন হয়েছেন তাঁর ছেলে।
ঘটনার তদন্তে নামে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, দুই মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ওই বিজেপি নেতার। তাদের দু’জনকেই থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখনই ভেঙে পড়েন বছর তেত্রিশের সুজাতা নামের এক মহিলা। নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেন তিনি।
ওই মহিলা জানান, বিজেপি কর্মীর সঙ্গে ছয় বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন মহিলাকে ডেকেছিলেন ওই বিজেপি কর্মী। তালে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেন। জোর করে মদ্যপানও করাতে চান বলে দাবী মহিলার। তিনি জানান, জোর করে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছিলেন বিজেপি কর্মী। সেই কারণে নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে হাতের কাছে পড়ে থাকা ব্লেড দিয়ে ওই নেতার যৌনাঙ্গ চিড়ে খুন করে পালিয়ে আসেন তিনি।
মহিলা বলেন, “ছেলেটাকে ছ’ বছর ধরে ভালবাসতাম। ও আমায় ফোন করে পার্টি অফিসে ডাকে। কথা বলতে-বলতে দেখলাম ড্রিঙ্ক করেছে। বুঝতে পেরে চলে আসছিলাম। তারপর জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইল। করিনি আমি কারণ ও আরও অনেকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। ও আমার সামনেই জামা-কাপড় খুলে জোর করছিল। যেটা আমি চাইনি। তাই টেবিলে ব্লেড ছিল পুরুষাঙ্গে চালিয়ে দিয়েছি”।
এইঘত্না প্রসঙ্গে এসপি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছে পৃথ্বীরাজের সঙ্গে একের অধিক মহিলার সম্পর্ক ছিল। আমরা একজনকে গ্রেফতার করেছি। সেই ভদ্রমহিলা নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। আর মহিলার বক্তব্যের পাশাপাশি তদন্ত করেও আমাদের হাতে যা তথ্য উঠে এসেছে তাতেও আমরা যথেষ্ট মিল পেয়েছি”। দোষ স্বীকারের পর মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।






