আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে রাজ্যের শুরু হয়েছে এক ডামাডোল। যাদের মাটি কাঁচাবাড়ি, যারা ঘর পাওয়ার যোগ্য তাদেরই নাম নেই আবাস যোজনার তালিকায়। আবার যাদের বড়সড় পাকাবাড়ি তাদের নাম উঠছে তালিকায়। আর এই নিয়ে প্রবল বিতর্কে রাজ্য সরকার। এবার ফের একবার এমনই অভিযোগ উঠল তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। পাকাবাড়ি থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম উঠেছে আবাস যোজনার তালিকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে কেতুগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের গঙ্গাটিকুড়ি পঞ্চায়েত এলাকায়। জানা গিয়েছে, সেখানকার আবাস যোজনার তালিকায় জ্বলজ্বল করছে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান গোপাল হাজরার নাম। অথচ তাঁর বেশ বড় পাকাবাড়ি রয়েছে যা যেন দিনদিন উচ্চতায় বেড়েই চলেছে। কিন্তু এদিকে যোগ্যদের নামই ওঠেনি আবাসের তালিকায়।
এই এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দায় দিনমজুর বা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। মাটির ঘরে বাস তাদের। কারোর কারোর তো আবার প্রায় ভেঙেই গিয়েছে বাড়ি। সেসব মানুষের নাম নেই আবাস যোজনার প্রকল্পের তালিকায়। এমন ঘটনায় তুমুল শোরগোল পড়েছে সেখানে। এই ঘটনায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। প্রধানের নাম কেন তালিকায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
যদিও খবর, প্রধান নাকি নিজেই প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনায় আজব সাফাই দিয়ে প্রধান বলেন, “এই তালিকা ২০১৮ সালের। সেই সময় আমার মাটির বাড়ি থাকায় তালিকায় নাম এসেছে। ২ বছর আগে মাটির বাড়ি ভেঙে পাকা বাড়ি করেছি। তাই প্রধান হিসাবে আমি চাই আমার নাম বাদ দিয়ে যারা যোগ্য উপভোক্তা তাদের ঘর দেওয়া হোক”।
আরও পড়ুনঃ ব্লেড দিয়ে পুরুষাঙ্গ চিড়ে দিয়ে খুন, উস্তির বিজেপি কর্মী খুনে গ্রেফতার এক মহিলা, কেন এমন নৃশংসতা?
তবে প্রধান মুখে যাই বলুন না কেন, এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ শানাতে ছাড়েনি বিরোধীরা। কটাক্ষবাণ শানিয়েছে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এদিকে আবাসের তালিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় রাজ্যে আবাস যোজনা নিয়ে চলছে সমীক্ষা। কিন্তু এরপরও এমন হয় কী করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তো থেকেই যাচ্ছে!






