আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভয়ার মা। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তার নাম সামনে আসতেই নানা মহলে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। জানা যাচ্ছে, তাকে আগেই রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার তিনি নিজেই ফোন করে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পানিহাটিতে কলতানের বিরুদ্ধে তাকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে খবর। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ সমর্থন করছেন, আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন তার এই পদক্ষেপ নিয়ে। ঘটনার আবেগ এখনও তাজা থাকায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
আরজি কর কাণ্ডের পর বহু মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মুখও এই আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। অনেকেই দিনের পর দিন পথে বসে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, যাতে মেয়েটির ন্যায়বিচার হয়। রাত জেগে আন্দোলনও হয়েছে, যা সেই সময় বেশ আলোচিত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত ফল না আসায় হতাশা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভয়ার মায়ের রাজনীতিতে প্রবেশকে অনেকেই নতুন দৃষ্টিতে দেখছেন। কেউ বলছেন, এটি ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের নতুন পথ হতে পারে, আবার কেউ মনে করছেন এতে আগের আন্দোলনের আবেগ আঘাত পেয়েছে।
অন্যদিকে, কেউ কেউ তুলনা টানছেন অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে। তাদের মতে, যদি অন্য কেউ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে রাজনীতিতে আসতে পারেন, তাহলে অভয়ার মায়ের ক্ষেত্রেও তা অস্বাভাবিক নয়। তবুও এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থামছে না। অনেকেই মনে করছেন, রাজনীতির মঞ্চে ওঠার সময় এবং পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। বিশেষ করে যে ঘটনার জন্য এত বড় আন্দোলন হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ আবার সামনে আসায় আবেগও জড়িয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সামাজিক মাধ্যমেও এই নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।
এদিকে বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকাতেও কিছু নতুন নাম সামনে এসেছে। প্রথম তালিকায় না থাকলেও, দ্বিতীয় তালিকায় শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, এই এলাকায় দাঁড়াতে পেরে তিনি খুশি। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেছেন, এলাকার উন্নয়নই তার প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে একটি হাসপাতাল তৈরি করা এবং পুরনো ব্রিজ মেরামতের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এলাকার বর্তমান অবস্থা অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তাই উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে চান তিনি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থন নিয়ে কাজ করার কথাও বলেছেন।
আরও পড়ুনঃ West Bengal: ইস্তেহারে রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ নিয়ে বড় চমক! তবে কি ভোট টানতেই নতুন পরিকল্পনা? বাস্তবায়ন নাকি শুধুই নির্বাচনী কৌশল—প্রশ্ন তুলছেন বঙ্গবাসীর একাংশ!
অন্যদিকে, অভয়ার মাকে ঘিরে সমালোচনার সুরও জোরালো হয়েছে। অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য তার এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যারা নিঃস্বার্থভাবে আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন, তাদের আবেগকে এই পদক্ষেপ আঘাত করতে পারে। একইভাবে অরিত্র দত্ত বণিকও প্রশ্ন তুলেছেন বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে। তার বক্তব্য, আগে যখন আদালতের বিষয়ে নানা জটিলতা ছিল, তখন অভয়ার মাকে সামনে আনা হয়নি কেন। তিনি আরও দাবি করেছেন, তদন্ত ও রিপোর্ট নিয়ে অনেক প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। এসব বিষয় সামনে এনে তিনি পুরো ঘটনার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।





