রাজ্যের রাজনীতিতে ফের চড়ছে পারদ। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে কোন কেন্দ্রগুলো ঘিরে লড়াই সবচেয়ে বেশি জমবে। সেই তালিকায় একেবারে উপরের দিকেই রয়েছে নন্দীগ্রাম। গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এই কেন্দ্রকে এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই কেন্দ্র ঘিরে শাসক-বিরোধী দুই শিবিরই এখন কৌশল সাজাতে ব্যস্ত।
এই আবহেই তৃণমূলের তরফে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার শুরু করতে চলেছেন। জানা যাচ্ছে, নন্দীগ্রাম থেকেই তিনি তাঁর প্রচার অভিযান শুরু করবেন। মূল লক্ষ্য—দলীয় সংগঠনকে আরও মজবুত করা এবং কর্মীদের নতুন করে উদ্দীপ্ত করা।
সূত্রের খবর, চলতি মাসেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন অভিষেক। ২৫ মার্চ নন্দীগ্রামে একটি কর্মীসভা দিয়ে প্রচারের সূচনা হবে। এরপর ২৭ মার্চ পাঁশকুড়া পূর্বে একটি বড় জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর ৩০ মার্চ কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসবেন তিনি। এই বৈঠকে নির্বাচনী কৌশল চূড়ান্ত করা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর কেন্দ্র। এখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। সেই জায়গায় তৃণমূল প্রার্থী করেছে পবিত্র করকে, যিনি একসময় শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। এই প্রার্থী নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে স্থানীয় সমীকরণে প্রভাব ফেলতে চাইছে শাসকদল—এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
আরও পড়ুনঃ মার্চের শেষে ফের দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের আশঙ্কা! ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিমি বেগে হাওয়ার সঙ্গে, একাধিক জেলায় হতে পারে শিলাবৃষ্টি! সপ্তাহজুড়ে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস! কোথায় কমলা ও হলুদ সতর্কতা, জানাল আবহাওয়া দফতর?
২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই লড়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি, তবে শেষ পর্যন্ত জয় পাননি। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। এবার আবারও এই কেন্দ্রকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। অন্যদিকে শুভেন্দুও নিজের অবস্থান শক্ত রাখতে মরিয়া। সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে, তা বলাই যায়। আর সেই লড়াইয়ে জয়ের লক্ষ্যেই একাধিক সভা করে মাঠ গরম করতে নামছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।






