মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ জটিল হচ্ছে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ইরান ও ইজরায়েল-এর সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা, কূটনীতি ও সামরিক কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উত্তেজনার আবহে অপ্রত্যাশিত মন্তব্য বা অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
এই উত্তেজনার মাঝেই সামনে এসেছে এক বিস্ফোরক মন্তব্য। আবদুল বসিত, যিনি একসময় ভারতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ছিলেন, একটি সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন যা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়, অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
একটি সাক্ষাৎকারে তিনি সম্ভাব্য এক চরম পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনও পাকিস্তান-এর ওপর সামরিক হামলা চালায়, তাহলে ইসলামাবাদের উচিত হবে বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে ভারত-কে নিশানা করা। এমনকি তিনি বলেন, দূরত্বের কারণে আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানানো কঠিন হলে ভারতের বড় শহরগুলিতে পরমাণু হামলার কথা ভাবা যেতে পারে।
এই মন্তব্য সামনে আসার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে নেটদুনিয়া। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। কেউ কটাক্ষ করে পুরনো সামরিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন, আবার কেউ সরাসরি তাঁর মানসিক অবস্থার সমালোচনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ছড়াতে পারে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুর ঘাঁটিতে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ তৃণমূলের! পবিত্র করকে সামনে রেখে ৩ সভায় ঝড় তুলতে চলেছেন অভিষেক, নন্দীগ্রামে কি বদলাবে সমীকরণ?
যদিও তাঁর বক্তব্যে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা খুবই কম, তবুও এই ধরনের ‘হাইপোথেটিক্যাল’ মন্তব্যও যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ফলে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন।





