রাজ্যে ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক মঞ্চে বাড়ছে উত্তাপ। নেতাদের ভাষণে পাল্টাচ্ছে সুর, বাড়ছে আক্রমণের মাত্রা। সম্প্রতি সবং-এর সভা থেকে এমনই এক বক্তব্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বক্তব্যের ধার আর আক্রমণের ভঙ্গি সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ভোটের আগে লড়াই এবার আরও তীব্র হতে চলেছে।
শুক্রবার সবং-এর সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি সরাসরি নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমিত শাহকে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন যদি সাহস থাকে, তবে যেন কলকাতায় থাকেন তিনি। এই বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, রাজনৈতিক সংঘাত এবার সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছে। তাঁর কথায়, ভোটের ফল নিয়ে কোনও সংশয় নেই, বরং ফল প্রকাশের আগেই পরিস্থিতি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
এই সভা থেকেই অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, “মমতা ব্যানার্জি উদার, আমি উদার নই।” এই একটি লাইনই রাজনৈতিক মহলে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি আরও জানান, গত কয়েক বছরে যারা সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ‘হিসেব’ চুকিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত ধরে ধরে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই বক্তব্যে বিরোধীদের প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারির ইঙ্গিত স্পষ্ট।
শুধু আক্রমণাত্মক বক্তব্যেই থেমে থাকেননি তিনি। ফল ঘোষণার দিন নিয়েও বড় দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, “চার তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না, দুপুর একটা বাজতেই ডিজে বাজবে।” সাধারণত ভোটের ফল প্রকাশের দিন উত্তেজনা চরমে ওঠে সন্ধ্যার দিকে, কিন্তু তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, তৃণমূল নিজেদের জয়ের ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী। এই বক্তব্য নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
আরও পড়ুনঃ “ভাই অমিত জোক মার’তে গিয়ে তো পুরো লেবড়ে ফেলেছে” বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত’কে ‘রবিশঙ্কর’ বলতেই, অমিত শাহকে নিয়ে বিদ্রুপ অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীর!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আক্রমণাত্মক ভাষণ আসলে কর্মীদের চাঙ্গা করার কৌশল হতে পারে। আবার অনেকে মনে করছেন, এটি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে আগাম বার্তাও হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় স্তরের নেতাকে এভাবে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোয় রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন নজর ৪ মে’র দিকে সেদিনই বোঝা যাবে, এই বক্তব্য কতটা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।





