জেলে সব একাকার! প্রেসিডেন্সি জেলে এল পার্থ-বালুর নতুন প্রতিবেশী, পহেলা বাইশেই ঠাঁই আর জি কর কাণ্ডে ধৃত সঞ্জয়ের

একজন হলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী আর অন্যজন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। একজন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে গত দু’বছর ধরে জেলে আর অন্যজন রেশন দুর্নীতির দায়ে প্রায় এক বছর ধরে জেলবন্দি। এবার জেলে নতুন এক প্রতিবেশী পেলেন তারা।

এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। দু’জনের ঠিকানা পহেলা বাইশ সেলে। দু’জনেই শাসক দলের প্রাক্তন মন্ত্রী ও অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। এবার তাদের সঙ্গেই একই জেলে থাকবেন আর জি কর কাণ্ডের ধৃত সঞ্জয় রায়। নতুন প্রতিবেশী পেলেন রাজ্যের দুই প্রাক্তন মন্ত্রী।

প্রেসিডেন্সি জেলের পহেলা বাইশ মোট ২২টি সেল রয়েছে। এর মধ্যে ২ নম্বর সেলে রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আর ৫ নম্বর সেলে রয়েছেন আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এবার সেই পহেলা বাইশের ২১ নম্বর সেলে জায়গা হল আর জি কাণ্ডের অভিযুক্তের।

এই ২১ নম্বর সেলে হাবিব নামে এক বন্দি এতদিন থাকতেন। তবে এবার সেই সেলে ঠাঁই হল সঞ্জয়ের। সেই কারণে সরানো হল হাবিবকে। এদিকে পহেলা বাইশেই রয়েছে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি আফতাব আনসারি, মুসার। সেখানেই এবার থাকবে সঞ্জয়ও। 

আর জি কাণ্ডে ধৃত সঞ্জয় রায়কে গতকাল, শুক্রবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়েছিল। এদিন অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন তাকে। এরপরই সঞ্জয়কে নিয়ে যাওয়া হয় প্রেসিডেন্সি জেলে। আপাতত সে পার্থ-বালুর প্রতিবেশী। পহেলা বাইশ সেলে আপাতত কড়া নজরদারি রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘ঘটনার দিন সকালে এক প্রভাবশালী তৃণমূল বিধায়ককে সবার আগে ফোন করেন সন্দীপ ঘোষ’, কে সেই বিধায়ক? তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু নিয়ে আর কোন রহস্য?

বলে রাখি, গত ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয় এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ। নৃশংসভাবে খুন করা হয় তাঁকে। ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে সঞ্জয় রায় নামের এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। আর জি কর মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। আপাতত সঞ্জয় ছাড়া আর কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। সেই সঞ্জয়কে এবার রাখা হল প্রেসিডেন্সি জেলে।

আরও অন্যান্য খবর