আর জি করের ঘটনা নিয়ে রাজ্যে এখন চারদিকে চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। এই ঘটনায় আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে প্রায় প্রতিদিনই জেরা করছে সিবিআই। কোনও প্রভাবশালী কী যুক্ত এই ঘটনায়? প্রথম থেকেই উঠে আসছিল এই প্রশ্ন। এবার আর জি করের ঘটনায় এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল।
এই আর জি করের ঘটনায় হাসপাতাল ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বেশ প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্যকে। আর এবার এক সংবাদমাধ্যমের কাছে এল বেশ কিছু তথ্য যা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। জানা গিয়েছে, যে সমস্ত ব্যক্তিরা তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন, তাদের থেকেই নানান তথ্য পেয়েছে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম। আর সেই থেকেই মিলেছে বিস্ফোরক সব তথ্য।
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন নাকি এমএসভিপি সঞ্জয় বশিষ্ঠ তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর খবর পান নিহতের ইউনিট হেড চিকিৎসক সুমিত রায় তপাদারের থেকে। তারপর সঞ্জয় বশিষ্ঠ ফোন করে খবর দেন সন্দীপ ঘোষকে। সেই সময় প্রথমেই এক তৃণমূলের প্রভাবশালী বিধায়ককে ফোন করেছিলেন। তারপর সেই প্রভাবশালী ব্যক্তি সন্দীপ ঘোষের শিবিরের এক হাউজ স্টাফকে ফোন করেন সকাল ১০.১৫ মিইত নাগাদ।
ওই হাউজ স্টাফ তখন শিয়ালদহ স্টেশনে ছিলেন। প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁকে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর সম্পর্কে জানান। সেই সময় ওই হাউজ স্টাফ দুই ইন্টার্নকে ফোন করে হাসপাতালে যেতে বলেন বলে খবর। সংশ্লিষ্ট ইন্টার্নের কথায়, তারা সেখানে পৌঁছে দেখেন যে এক ইন্টার্ন ও হাউজ স্টাফ রয়েছে। তারা এও জানান, অধ্যক্ষ সেই সময় তাদের বলেছিলেন যাতে বহিরাগতরা সেখানে প্রবেশ না করে, তা নিশ্চিত করতে।
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন সন্দীপ ঘোষ সাড়ে দশটার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছন। ততক্ষণে টালা থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছে। আন্দোলনকারী এক চিকিৎসক বলেন, “আমরা শুনেছিলাম, অনেকেই এসেছিলেন সেদিন সেমিনার রুমে। কিন্তু সেটাই প্রশ্ন কেন এসেছিলেন? এটায় সবার একসঙ্গে লড়া উচিত। কেন এত লুকোছাপা”?
এই ঘটনা থেকে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। সকাল ১০টায় তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনা নিশ্চিত হলে তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবাকে ১০.৫২ মিনিটে ফোন করে কেন আত্মহত্যার কথা জানানো হল? নির্যাতিতার মা বলেছেন, “আমরা বাড়িতে থাকতেই বিষয়টা বুঝতে পেরে গিয়েছিলাম। ওরা কিছু চেপে দিতে চাইছে। আমরা যখন গাড়িতে ছিলাম, তখনই ওদের গলার টোনে বুঝেছিলাম”।
নির্যাতিতার বাবার কথায়, “কাউকে একটা মৃত্যু সংবাদ দেওয়ার আগে, যে ধরনের গলার স্বর থাকে.. ওই স্বরটাতেই বোঝা যাচ্ছে”। ময়নাতদন্তের পর কেন অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল? সে বিষয়ের উত্তর খুঁজছে সুপ্রিম কোর্টও।
এই ঘটনায় বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটা নিছক উত্তেজনার বেশ করে ফেলা কোনও অপরাধ, নাকি এর পিছনে বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। আরজি করের প্রশাসন, বাকি সব কিছু মিলিয়ে ওই মহিলা চিকিৎসক নিশ্চয়ই কিছু জানতেন, তা যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে”।





