কিছুদিন ধরেই বাংলার রাজনীতি বেশ উত্তপ্ত। অমিত শাহের দুদিনের বাংলা সফর ঘিরে উঠে এসেছে নানান মত। রাজ্য রাজনীতির মানুষ কম আক্রমণ করতেও ছাড়েন নি বাংলায় আগত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। কখনও তাঁর উপর আনা হল মিথ্যেবাদীর অপবাদ, আবার কখনও বলা হয়েছে, তাঁর জন্যই নাকি আদিবাসীদের মধ্যে হিংসা, দুর্নীতি বেড়েছে। এরই মাঝে রাজ্য সরকারকে ফের একহাত নিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী।
অমিত শাহ বাংলায় আসার পর থেকেই যে নামটি বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে তা হল পরিবহন ও সেচ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, রবিবার তাঁর প্রসঙ্গেই একটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের অধীর চৌধুরী বলেন, “একটা কথা বলি, এই অধিকারীরা না থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না। শুভেন্দু নিজের জীবনের ঝুঁকি নন্দীগ্রামের আন্দোলন করেছিলেন বলেই মমতা মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছেন। আন্দোলনের শুরুতে কোথায় ছিলেন তিনি, কোথায় ছিলেন তাঁর ভাইপো-ভাইঝিরা?”
মুর্শিদাবাদে শুভেন্দু অধিকারী ও অধীর চৌধুরীর যে দ্বৈরথ বাংলা দেখেছে, তা কারোরই অজানা নয়। গত কয়েক বছরে লোকসভা ভোটে অধীর চৌধুরীকে হারাতে শুভেন্দু কীভাবে লড়েছিল, তা গোটা বাংলা সাক্ষী। কিন্তু আজ হঠাৎ সেই চিরশত্রুর সম্বন্ধেই এতো প্রশংসা, তা যেন কেমন সন্দেহভাজন ঠেকছে।
এই জবাবে, অধীরবাবু জানান, “ আমি বাজে কথা বলি না। শুভেন্দুর সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধিতা ছিল, থাকবেও। কিন্তু সত্যিটাকে তো অস্বীকার করা যায় না। নন্দীগ্রামে যখন আন্দোলন হয়, আমি তখন সেখানে গিয়েছি। শুভেন্দু কীভাবে আন্দোলন করেছিল, গরীব মানুষ, কৃষকেরা কীভাবে তাঁর উপর নির্ভর করেছিল, তা আমি দেখেছি। তাহলে মিথ্যে বলব কেন?
রাজনৈতিক অন্দরে এমনিই গুঞ্জন উঠেছে যে শুভেন্দু হয়ত দল ছাড়তে পারেন। এমনিও তিনি দলের কোনও অনুষ্ঠান বা মন্ত্রীসভায় থাকছেন না, দলহীন কর্মসূচী করছেন। তাঁর অনুগামীদের মতে, দাদা তৃণমূলে নিজের যজ্ঞও সম্মান পাননি। অনেকের দাবী, দাদা নিজে লড়াই করে রাজনীতিতে উঠে এসেছে, তাহলে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মানবেন কেন?
এমন অবস্থায়, শুভেন্দুর রাজনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কারোর মতে, তিনি তৃণমূল ছেড়ে হয়ত বিজেপিতে যোগ দেবেন। আবার কেউ মনে করছেন, শুভেন্দু নিজের আলাদা দল গড়বেন। আবার অনেকের ধারণা, তিনি বাম-কংগ্রেস জোটের দিকেই ঝুঁকবেন।
এই নিয়ে অধীরবাবুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে, শুভেন্দু কী করবেন তা তিনি জানেন না। তবে দল যে শুভেন্দুকে উপযুক্ত সম্মান দেয়নি, তা তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন। তিনি এও বলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সুবিধার জন্য শুভেন্দুকে ব্যবহার করেছেন, আর কাজ হাসিল হওয়ার পর ফিরে তাকান নি।
কাকতালীয়ভাবে, আজ, রবিবার শুভেন্দুর মুর্শিদাবাদে যাওয়ার কথা। সেখানে এক স্থানীয় নেতা কয়েকদিন আগে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর উদ্দেশে আজ সেখানে স্মরণসভা রয়েছে। এই বিষয়ে শুভেন্দুর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।






