“আমার অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে গিয়েছে, এখানে কেউ নেই, আমি আর বাঁচব না!” এনআরএস-এ তিলে তিলে মৃত্যু বৃদ্ধের

মৃত্যুর আগে বাড়িতে নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে ফোন করেছিলেন বৃদ্ধ। বলেছিলেন, “আমার অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে গিয়েছে, এখানে দেখাশোনার কেউ নেই। বাবা বললেন, আমি এখন মারা যাচ্ছি। আমি আর বাঁচব না।”

বাংলায় এখন বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ। কিন্তু এই সবের মাঝেই করোনার ভয়াবহতা যে মাত্রা ছাড়াচ্ছে তা প্রায় না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা। বড় বড় সভা-সমাবেশ করে আমজনতার ভালো করতে ঝাঁপিয়ে পড়া মানুষগুলোই অবস্থা আর‌ও খারাপ করে দিচ্ছেন। ভোট-পরবর্তী বাংলার করোনা চিত্র কি হতে পারে তা ভেবেই শিউরে উঠতে হয়। ‌ এরই মাঝে চিকিৎসার গাফিলতি তো আছেই।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝে ফের শহরে চিকিৎসায় গাফিলতির অভাবে মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে কাতরাতে-কাতরাতে, তিলে-তিলে কোভিড ওয়ার্ডে মৃত্যু হল এক করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের। ঘটনার জেরে কাঠগড়ায় উঠেছে নীল রতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

আরও পড়ুন-কঠিন হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি! ১৫ই মে পর্যন্ত বন্ধ জাদুঘর, সায়েন্স সিটি, ভিক্টোরিয়া সহ একাধিক দর্শনীয় স্থান

উল্লেখ্য, বছর ৬৮-র এন্টালির বাসিন্দা স্বপন দাস দিনকয়েক আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন এনআরএস হাসপাতালে। কিন্তু বুধবার দুপুরে তাঁর অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে যায় বলে অভিযোগ। ছেলে সোহম দাসের বয়ান অনুযায়ী, বৃদ্ধ বাড়িতে ফোন করে বলেন, “আমার অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে গিয়েছে, এখানে দেখাশোনার কেউ নেই। বাবা বললেন, আমি এখন মারা যাচ্ছি। আমি আর বাঁচব না।”

সোহমবাবুর দাবি, এরপর এন‌আর‌এস-এর হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলে বলা হয় ‘দেখছি।’ পরে স্বপনবাবুর পরিবার হাসপাতালে এসে হাজির হলে ভিডিয়ো কলে কথা বলানোর ব্যবস্থা করা হয়। সোহম বাবু বলেন, “প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় বাবা চোখ মেলে চাইলেন। একটাও কথা বলতে পারলেন না। যা বলার নার্সই বললেন। অভিযোগ আছে কি না জিজ্ঞেস করে নিজেই বললেন, না ওঁর কোনও অভিযোগ নেই।”

অবশেষে গত কাল বছরের প্রথম দিনে দুপুরে মৃত্যু হয় স্বপনবাবুর। যেহেতু স্বাস্থ্য ভবনের মাধ্যমে রোগীকে এনআরএসে ভর্তি করানো হয়েছিল, তাই বাবার ছটফট করার কথা শুনে স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুমে ফোন করেছিলেন ছেলে। তাতে সাময়িক কাজ হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু ওয়ার্ডের খবর বাইরে কীভাবে গেল, তা নিয়ে হুমকির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। সোহমের দাবি, রোগীকে কেন‌ও ফোন রাখতে দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে ধমকও শুনতে হয়। মৃতের ছেলের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের গাফিলতির জন্যই মৃত্যু হল বাবার।

RELATED Articles