সুদে টাকা ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু তা শোধ করতে পারছিলেন না। এটাই প্রৌঢ়ের অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। শাস্তি হিসেবে প্রৌঢ়কে হাত-পা বেঁধে রেললাইনের ধারে ফেলে দেওয়া হল। এর জেরে ট্রেনের ধাক্কায় খোয়াতে হল পা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে দুই ব্যক্তিকে। যদিও রেললাইনের ধারে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে অভিযুক্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়াতে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, জখম রুদ্রভৈরব মুখোপাধ্যায় রাজ্যের সেচ দফতরের কর্মী। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে কাজ করেন তিনি। স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে কাটোয়ার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদপুর কলোনিতে থাকতেন রুদ্রভৈরববাবু। কেতুগ্রাম থানার পুলিশ ও রেলপুলিশ ওই ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার শিবলুন স্টেশনের কাছে রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে খবর অনুযায়ী, তাদের কাছে খবর যায় যে রেললাইনে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কেউ পড়ে রয়েছেন। সেই মতো ওই এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। রুদ্রভৈরববাবুকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় দেখা যায় যে রুদ্রভৈরববাবুর আঘাত বেশ গুরুতর। তাঁর একটি পা কাটা পড়েছে বলেও খবর। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে রাতভর চিকিৎসা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
রুদ্রভৈরববাবুর ছেলে শৌভিক জানান যে সহকর্মী বিশ্বনাথ সাহা ও সুদীপ ধরের থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকারও বেশি টাকা ধার নিয়েছিলেন তাঁর বাবা। সেই টাকা নিয়েই অশান্তি চলছিল। গতকাল, বৃহস্পতিবার ওই দুই সহকর্মী বাইকে করে রুদ্রভৈরববাবুকে রেললাইনের ধারে নিয়ে যান। অজ্ঞান করে হাত-পা বেঁধে রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয় রুদ্রভৈরববাবুকে। এরপরই ট্রেনে পা কাটা পড়ে রুদ্রভৈরববাবুর।
বিশ্বনাথ সাহা ও সুদীপ ধর নামের রুদ্রভৈরববাবুর দুই সহকর্মীকে আটক করে রেলপুলিশ। তাদের জেরা করা হয়। তারা জানান যে টাকা ফেরত দিতে না পারায় রুদ্রভৈরববাবুর সঙ্গে অশান্তি হয় তাদের। তবে রেললাইনের ধারে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তারা। রুদ্রভৈরববাবুর ওই অভিযোগ মিথ্যে বলেই দাবী করেন দু’জনে। হাওড়ার রেলপুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে রুদ্রভৈরববাবু আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।






