বগটুই গণহত্যাকাণ্ডের পরই কোনও তদন্তের আগেই তিনি মন্তব্য করে বলেছিলেন যে টিভি ফেটে আগুন লেগেছে আর সেই আগুনে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়েছিল। তবে এবার যা মনে হচ্ছে, বেশ বিপাকে পড়েছেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল।
বগটুই ঘটনার আড়াই দিন পর গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে যান ও স্বজনহারাদের সান্ত্বনা দেন। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু তাতেও যেন স্বজনহারাদের মন থেকে আতঙ্ক কাটছে না। প্রাণ সংশয়ে ভুগছেন তারা। এদিন মমতার সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন অনুব্রতও। আর সেখানেই এক বৃদ্ধ বাসিন্দার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।
এদিকে আবার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ দাবী করেছেন যে ঘটনার দিন এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনারুল হোসেন যখন অনুব্রত মণ্ডলকে ফোন করেছিলেন, সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “দুটো বাড়ি জ্বলছে, জ্বলতে দিন”। বিজেপি নেতার দাবী, অনুব্রত মণ্ডলের এমন মন্তব্যের দিকে কেন আলোকপাত করা হচ্ছে না। কেন তাঁর ফোন খতিয়ে দেখা হচ্ছে না?
বগটুই কাণ্ডে গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেওয়ার পরই পুলিশ গ্রেফতার করে আনারুলকে। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ করা হল না, সে নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তাহলে কী মুখ্যমন্ত্রী অনুব্রতকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন? এমনও প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে, আজ, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের তরফে রায় দেওয়া হয়েছে যে বগটুই গণহত্যাকাণ্ড মামলায় তদন্ত করবে সিবিআই। কারণ রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা করতে পারছে না আদালত। গরু পাচারকাণ্ডে এমনিতেই বারবার সিবিআই তলব করেছে অনুব্রতকে। আর বগটুই কাণ্ডের তদন্তও শুরু করবে সিবিআই।
অনুব্রত মণ্ডলের দিকে যে এমন অভিযোগের আঙুল উঠেছে, তা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা খতিয়ে দেখবে অবশ্যই। তাদের নজর থাকবে ‘কেষ্ট’র কার্যকলাপের উপর। এর জেরে বিপদ বাড়তে পারে অনুব্রতর। তাঁর গ্রেফতার হওয়ার নিশ্চয়তা যেন ক্রমেই আরও স্পষ্ট হচ্ছে। তবে আগামীদিনে এই মামলা কোনদিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সকলের।





