শক্তিগড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে খু’ন হয়েছেন কয়লা মাফিয়া রাজু ঝাঁ (Raju Jha)। তাঁকে সক্রিয় রাজনীতি সেভাবে করতে দেখা না গেলেও একসময় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে (TMC) যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর রাজুর বিজেপির যোগ নিয়ে তোপ দাগতে ছাড়েন নি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। এবার সেই মৃত কয়লা মাফিয়ার বাড়িতেই গেলেন তৃণমূলের অর্জুন সিং (Arjun Singh)।
মৃত ব্যবসায়ীর বাড়িতে অর্জুন সিং-এর যাওয়া নিয়ে স্বভাবতই বেশ জল্পনা শুরু হয়েছে। তা নিয়ে চর্চাও হচ্ছে ঢের। কারণ রাজু ছিলেন বিজেপিতে আর অর্জুন এখন তৃণমূলের সৈনিক। আর তিনি রাজুর বাড়ি যাওয়ায় তাঁর দল কী অস্বস্তিতে পড়বে না? এই বিষয় নিয়ে তেমন মাথা ঘামাতেই অবশ্য রাজি নন অর্জুন। তাঁর সাফ উত্তর, তিনি যাকে ভাই বলে ডাকতেন, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পাশে তিনি দাঁড়াবেনই।
গতকাল, শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে মৃত কয়লা মাফিয়া রাজু ঝাঁ-র বাড়ি যান অর্জুন সিং। দেখা করেন তাঁর পরিবারের সঙ্গে। অর্জুন বারবার এটাই জানান যে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে রাজুর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তিনি তাঁকে ভাইয়ের চোখেই দেখতেন। আর সেই খাতিরেই তিনি গিয়েছেন রাজুর বাড়ি।
এদিন রাজুর বাড়ি গিয়ে অর্জুন বলেন, “কোনও লুকনো কাজ আমি করি না। আমি কারও কাছে যাব, যে আমার পূর্ব পরিচিত, সেটা দল কে জানানোর কী আছে! আমাদের দল অত সংকীর্ণ নয়, ওপেন দল আমাদের। আমি কারও বাড়িতে যাব, দল বারণ করবে এমন কোনও ব্যপার নেই”।
বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজুকে তিনি ভাই বলছেন? এই প্রসঙ্গে অর্জুনের জবাব, “তৃণমূল করলে কি ভাইকে ভাই বলতে পারব না, বাবাকে বাবা বলতে পারব না”। অর্থাৎ রাজুর বাড়িতে যাওয়া নিয়ে তাঁর যে বিন্দুমাত্র অস্বস্তি নেই, তা ভালোভাবে বুঝিয়ে দেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে কারও বাড়িতে যায়, তাতে দলের কিছু বলার নেই”।
এদিন রাজু ঝাঁ-কে সৎ ব্যবসায়ী বলেই বারবার দাবী করেন অর্জুন সিং। তাঁর কথায়, একটা সময় রাজু কিছু করে থাকলেও, শেষের দিকে সৎভাবেই ব্যবসা করছিলেন তিনি। অর্জুন এও জানান যে রাজু একটি হাসপাতালও বানাচ্ছিলেন।






